ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (ক) ক্লোরোপিক্রিন
**ভূমিকা:**
বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন ধরনের গ্যাস ব্যবহৃত হয়। এর মধ্যে কাঁদুনে গ্যাস একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে পরিচিত। বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় এই বিষয়টি থেকে প্রায়ই প্রশ্ন আসে।
**ক্লোরোপিক্রিন সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— ক্লোরোপিক্রিন একটি রাসায়নিক যৌগ যার রাসায়নিক সংকেত হলো **CCl₃NO₂**।
— এটি একটি বর্ণহীন থেকে হালকা হলুদ বর্ণের তরল পদার্থ, যা তীব্র ঝাঁঝালো গন্ধযুক্ত।
— ক্লোরোপিক্রিনকে সাধারণত **কাঁদুনে গ্যাস** নামে অভিহিত করা হয় কারণ এটি চোখ ও শ্বাসনালীতে মারাত্মক জ্বালা সৃষ্টি করে, যার ফলে মানুষের চোখ দিয়ে পানি পড়ে এবং কাশি শুরু হয়।
— এটি প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় রাসায়নিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছিল।
— ক্লোরোপিক্রিনের ব্যবহার রয়েছে কৃষিক্ষেত্রে কীটনাশক হিসেবে এবং শিল্পক্ষেত্রে বিভিন্ন রাসায়নিক প্রক্রিয়ায়।
— এটি একটি শক্তিশালী ল্যাক্রিমেটরি এজেন্ট (চোখে জ্বালা সৃষ্টিকারী পদার্থ) হিসেবে পরিচিত।
**বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:**
✗ খ) মিথেন: মিথেন একটি সরলতম হাইড্রোকার্বন যৌগ (CH₄), যা প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রধান উপাদান। এটি কোনো ধরনের গ্যাস নয় যা চোখে জ্বালা সৃষ্টি করে।
✗ গ) নাইট্রোজেন: নাইট্রোজেন একটি নিষ্ক্রিয় গ্যাস (N₂), যা বাতাসের প্রধান উপাদান। এটি কোনো ধরনের জ্বালা বা কাঁদুনে প্রভাব ফেলে না।
✗ ঘ) ইথেন: ইথেন একটি হাইড্রোকার্বন যৌগ (C₂H₆), যা প্রাকৃতিক গ্যাসে পাওয়া যায়। এটি কোনো ধরনের কাঁদুনে গ্যাস নয়।
**উৎস:**
— রসায়ন বিষয়ক বিভিন্ন পাঠ্যপুস্তক (যেমন: NCERT Chemistry, উচ্চ মাধ্যমিক রসায়ন)
— বাংলাদেশ সরকারের বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক প্রকাশনা
— প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রশ্নব্যাংক (BCS, Bank, NTRCA, Primary)