ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (খ) উপন্যাস
‘কাশবনের কন্যা’ বাংলাদেশের সাহিত্যের একটি বিখ্যাত উপন্যাস। এটি মূলত একটি উপন্যাস হিসেবে পরিচিত হলেও এর বিষয়বস্তু ও গঠনশৈলীর কারণে এটি সাহিত্যের অন্যান্য শাখা থেকেও আলোচিত হয়।
**‘কাশবনের কন্যা’ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— ‘কাশবনের কন্যা’ উপন্যাসটির রচয়িতা বিশিষ্ট কথাসাহিত্যিক ও কথাশিল্পী **শওকত আলী**। তিনি বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান সাহিত্যিক হিসেবে পরিচিত।
— উপন্যাসটি প্রথম প্রকাশিত হয় **১৯৮৪ সালে**। এটি শওকত আলীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ সাহিত্যকর্ম হিসেবে বিবেচিত।
— উপন্যাসটির মূল বিষয়বস্তু হলো **বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ ও তার পূর্ববর্তী সময়ের সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট**। এটি যুদ্ধকালীন সময়ের মানবিক সংকট ও দেশপ্রেমের চিত্র তুলে ধরে।
— উপন্যাসটির নামকরণ করা হয়েছে ‘কাশবন’ নামক একটি স্থানকে কেন্দ্র করে, যা বাংলাদেশের গ্রামীণ জনজীবনের প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে।
— উপন্যাসটি বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ উপন্যাস হিসেবে বিবেচিত হয় এবং বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা সাহিত্যের পাঠ্যসূচিতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
— শওকত আলী তার সাহিত্যকর্মের জন্য **বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৬৮)**, **একুশে পদক (১৯৮৬)**, এবং **স্বাধীনতা পুরস্কার (২০০৫)** সহ অসংখ্য পুরস্কারে ভূষিত হন।
**বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:**
✗ ক) নাটক: ‘কাশবনের কন্যা’ উপন্যাস হলেও এর বিষয়বস্তু ও গঠনশৈলী নাটকের মতো নয়। এটি গল্পের মাধ্যমে বর্ণিত হয়েছে, নাটকের সংলাপ ও অভিনয়ের মাধ্যমে নয়।
✗ গ) কাব্য: উপন্যাসটি গদ্যে লেখা হয়েছে, পদ্যে নয়। তাই এটি কাব্য হিসেবে বিবেচিত নয়।
✗ ঘ) ছোটগল্প: উপন্যাসটি একটি দীর্ঘ সাহিত্যকর্ম, যা একটি সম্পূর্ণ কাহিনীকে ধারণ করে। এটি ছোটগল্পের মতো সংক্ষিপ্ত নয়।
**উৎস:**
— শওকত আলী, *কাশবনের কন্যা* (উপন্যাস), প্রথম প্রকাশ: ১৯৮৪, বাংলা একাডেমি।
— বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, সম্পাদনা: ড. আনিসুজ্জামান, বাংলা একাডেমি।
— মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক বাংলা সাহিত্যের পাঠ্যপুস্তক।