ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (ক) হিত্তিক ও তুখারিক
**কেন্তুম ভাষা পরিবারের সংক্ষিপ্ত ভূমিকা:**
কেন্তুম ভাষা পরিবার হল ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষা পরিবারের একটি প্রধান শাখা। এই পরিবারের ভাষাগুলো মূলত ইউরোপ, ইরান ও ভারতীয় উপমহাদেশে প্রচলিত। কেন্তুম শাখার ভাষাগুলোকে সাধারণত দুই ভাগে ভাগ করা হয়: **হিত্তিক** (Hittic) এবং **তুখারিক** (Tocharian)। এশিয়ার ভূখণ্ডে এ দুটি শাখার ভাষার প্রচলন ছিল বলে প্রমাণিত।
---
**কেন্তুম ভাষা পরিবারের শাখা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— **হিত্তিক শাখা:**
— হিত্তিক ভাষা প্রাচীন আনাতোলিয়া (বর্তমান তুরস্ক) অঞ্চলে প্রচলিত ছিল।
— খ্রিস্টপূর্ব ২য় সহস্রাব্দে হিত্তিক ভাষায় লেখা শিলালিপি পাওয়া গেছে, যা ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষা পরিবারের প্রাচীনতম নিদর্শন হিসেবে বিবেচিত।
— হিত্তিক ভাষা ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষা পরিবারের পূর্ববর্তী রূপ হিসেবে চিহ্নিত।
— **তুখারিক শাখা:**
— তুখারিক ভাষা প্রাচীন চীন ও মধ্য এশিয়ার তুখারিস্তান অঞ্চলে প্রচলিত ছিল।
— খ্রিস্টীয় ৫ম থেকে ৯ম শতাব্দীর মধ্যে তুখারিক ভাষায় লেখা বৌদ্ধ ধর্মগ্রন্থ ও অন্যান্য সাহিত্যিক নিদর্শন পাওয়া গেছে।
— তুখারিক ভাষা দুটি উপভাষায় বিভক্ত ছিল: **তুখারিক এ** (Tocharian A) এবং **তুখারিক বি** (Tocharian B)।
— **কেন্তুম ভাষা পরিবারের অন্যান্য শাখা:**
— গ্রিক, লাতিন, জার্মানিক, কেল্টিক ও ইটালিক ভাষাগুলোও কেন্তুম পরিবারের অন্তর্ভুক্ত।
— এসব ভাষা ইউরোপ ও ইরানে প্রচলিত।
— **কেন্তুম ভাষা পরিবারের বৈশিষ্ট্য:**
— কেন্তুম ভাষাগুলোতে স্বরধ্বনির পরিবর্তন (যেমন, *p > f*) দেখা যায়, যা স্যাটেম ভাষাগুলোর বিপরীতে অবস্থান করে।
— ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষা পরিবারের আদি অবস্থান সম্পর্কে ধারণা পেতে কেন্তুম ভাষাগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
---
**বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:**
✗ **খ) তামিল ও দ্রাবিড়:**
— তামিল ও দ্রাবিড় ভাষাগুলো দ্রাবিড় ভাষা পরিবারের অন্তর্ভুক্ত, যা ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষা পরিবারের বিপরীতে অবস্থান করে। এগুলো দক্ষিণ ভারত ও শ্রীলঙ্কায় প্রচলিত।
✗ **গ) আর্য ও অনার্য:**
— আর্য ও অনার্য কোনো ভাষা পরিবার নয়, বরং ঐতিহাসিক ও জাতিগত শ্রেণিবিভাগ। আর্যরা ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষা পরিবারের অন্তর্ভুক্ত ছিল, অনার্যরা নয়।
✗ **ঘ) মাগধী ও গৌড়ী:**
— মাগধী ও গৌড়ী প্রাচীন ভারতের ভাষা ও উপভাষা ছিল, যা ইন্দো-আর্য ভাষা পরিবারের অন্তর্ভুক্ত। এগুলো কেন্তুম ভাষা পরিবারের অংশ নয়।
---
**উৎস:**
1. *The Comparative Grammar of Greek and Latin* – Andrew L. Sihler (Indo-European linguistics reference)
2.