ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (ক) লালন শাহ
"কেউ মালা, কেউ তসবি গলায়, তাইতো জাত ভিন্ন বলায়" — এই বিখ্যাত পংক্তিটি বাংলার লোকসাহিত্য ও বাউল দর্শনের এক অনন্য প্রকাশ। লালন শাহ ছিলেন বাংলার অন্যতম শ্রেষ্ঠ বাউল সাধক, দার্শনিক ও গীতিকার। তাঁর রচিত গানগুলো মানবতাবাদ, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও ধর্মের গোঁড়ামির বিরুদ্ধে এক বলিষ্ঠ উচ্চারণ।
**লালন শাহ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— **জন্ম ও পরিচয়:** লালন শাহ (১৭৭৪–১৮৯০) কুষ্টিয়া জেলার ছেঁউড়িয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর জন্মস্থান নিয়ে মতভেদ থাকলেও কুষ্টিয়া অঞ্চলই তাঁর কর্মস্থল হিসেবে পরিচিত।
— **ধর্ম ও দর্শন:** লালন শাহ ছিলেন একজন মানবতাবাদী ও ধর্মীয় গোঁড়ামির বিরোধী। তিনি ইসলাম, হিন্দু ধর্ম ও অন্যান্য ধর্মের সমন্বয়বাদী দর্শনে বিশ্বাস করতেন। তাঁর গানে মানবপ্রেম, সাম্য ও ঐক্যের বার্তা ফুটে উঠেছে।
— **সাহিত্যকর্ম:** তাঁর রচিত গানের সংখ্যা প্রায় ২ হাজারের বেশি বলে ধারণা করা হয়। তাঁর গানগুলো মূলত বাউল গানের ধারায় রচিত। তাঁর উল্লেখযোগ্য গানের মধ্যে রয়েছে "খাঁচার ভিতর অচিন পাখি", "আমি এক জলসাঘরের নাচিয়ে", "মন মাঝি তোর বৈঠা নেরে" ইত্যাদি।
— **সামাজিক প্রভাব:** লালন শাহের দর্শন ও গান বাংলার সমাজে ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে। তাঁর অনুসারীরা তাঁকে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন এবং তাঁর গানগুলো এখনও বাংলার লোকসংস্কৃতির অংশ হিসেবে প্রচলিত।
**বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:**
✗ খ) সিরাজ সাঁই: সিরাজ সাঁই ছিলেন লালন শাহের শিষ্য ও পরবর্তীকালের একজন উল্লেখযোগ্য বাউল সাধক। তবে তাঁর রচিত গান বা উক্তি হিসেবে এই পংক্তিটি পরিচিত নয়।
✗ গ) মদন বাউল: মদন বাউল ছিলেন বাংলার একজন প্রখ্যাত বাউল সাধক, তবে তাঁর রচিত গান বা উক্তি হিসেবে এই পংক্তিটি পরিচিত নয়।
✗ ঘ) পাগলা কানাই: পাগলা কানাই ছিলেন বাংলার একজন বিখ্যাত বাউল সাধক, তবে তাঁর রচিত গান বা উক্তি হিসেবে এই পংক্তিটি পরিচিত নয়।
উৎস:
— লালন শাহ রচনাবলী (বাংলা একাডেমি প্রকাশিত)
— বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস (ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ)
— বাউল দর্শন ও লালন শাহ (ড. আনিসুজ্জামান)