ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (ঘ) বাঙ্গালী জাতীয়তাবাদ
পূর্ব বাংলায় ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপট ও কারণ সম্পর্কে ধারণা লাভের জন্য এর ঐতিহাসিক পটভূমি সম্পর্কে জানা জরুরি।
**বাঙ্গালী জাতীয়তাবাদ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— **ভাষা আন্দোলনের মূল প্রেরণা:** ১৯৪৭ সালে ভারত বিভক্তির পর পূর্ব বাংলা (বর্তমান বাংলাদেশ) পাকিস্তানের অংশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়। পাকিস্তান সরকার উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করলে পূর্ব বাংলার জনগণ প্রতিবাদ জানায়। এই প্রতিবাদই ভাষা আন্দোলনের সূচনা করে।
— **জাতীয় পরিচয়ের প্রশ্ন:** পূর্ব বাংলার জনগণ নিজেদের ভাষা বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার দাবিতে ঐক্যবদ্ধ হয়। তারা মনে করতেন, বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতিই তাদের জাতীয় পরিচয়ের প্রধান উপাদান।
— **সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ঐক্য:** পূর্ব বাংলার জনগণের মধ্যে বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির প্রতি গভীর অনুরাগ ছিল। উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা তাদের জাতীয়তাবোধকে ক্ষুণ্ণ করে।
— **রাজনৈতিক প্রতিবাদ:** ১৯৪৮ সালের মার্চ মাসে পাকিস্তানের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খাজা নাজিমুদ্দিন ঘোষণা করেন যে, উর্দুই হবে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা। এর প্রতিবাদে পূর্ব বাংলায় ব্যাপক আন্দোলন শুরু হয়, যা পরবর্তীতে ভাষা আন্দোলনের রূপ নেয়।
**বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:**
✗ **ক) দ্বি-জাতি তত্ত্ব:** দ্বি-জাতি তত্ত্ব ছিল ভারত বিভক্তির মূল ভিত্তি, যেখানে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চলগুলোকে পাকিস্তান হিসেবে আলাদা রাষ্ট্র গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়। এটি ভাষা আন্দোলনের সরাসরি কারণ নয়।
✗ **খ) সামাজিক চেতনা:** সামাজিক চেতনা ভাষা আন্দোলনের একটি অংশ হতে পারে, তবে এটি ভাষা আন্দোলনের প্রধান ভিত্তি ছিল না।
✗ **গ) অসাম্প্রদায়িকতা:** অসাম্প্রদায়িকতা একটি সামাজিক ও রাজনৈতিক ধারণা, যা ভাষা আন্দোলনের সাথে সরাসরি সম্পর্কিত নয়।
**উৎস:**
— *বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের ইতিহাস* (ড. মোহাম্মদ হাননান)
— *ভাষা আন্দোলনের দলিলপত্র* (বাংলা একাডেমী)
— *পাকিস্তানের রাজনৈতিক ইতিহাস* (ড. আবুল মনসুর আহমেদ)