ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (গ) লোকায়ত জীবন-সংস্কৃতি
‘কিত্তনখোলা’ বাংলাদেশের গ্রামীণ জীবন ও সংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ নাটক। এটি মূলত গ্রামীণ সমাজের জীবনধারা, সংস্কৃতি, বিশ্বাস ও ঐতিহ্যকে তুলে ধরে। নাটকটি রচনার মাধ্যমে গ্রামীণ জীবনের সৌন্দর্য ও জটিলতাকে দর্শকদের সামনে উপস্থাপন করা হয়েছে।
**‘কিত্তনখোলা’ নাটক সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— ‘কিত্তনখোলা’ একটি বাংলা নাটক, যার রচয়িতা বিখ্যাত নাট্যকার সেলিম আল দীন।
— এটি প্রথম মঞ্চস্থ হয় ১৯৮১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পরপরই।
— নাটকটির মূল বিষয়বস্তু হলো গ্রামীণ জীবনের লোকায়ত সংস্কৃতি, ধর্মীয় বিশ্বাস, সামাজিক রীতিনীতি ও মানুষের জীবনযাত্রা।
— ‘কিত্তনখোলা’ শব্দটি বাংলার লোকসংস্কৃতির একটি অংশ, যা গ্রামীণ মানুষের জীবনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।
— নাটকটিতে গ্রামীণ মানুষের ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান, যেমন যাত্রাপালা, পালাগান, ধর্মীয় অনুষ্ঠান ইত্যাদি তুলে ধরা হয়েছে।
— এটি বাংলাদেশের লোকজ সংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল হিসেবে বিবেচিত হয়।
— নাটকটির মাধ্যমে গ্রামীণ জীবনের বিভিন্ন দিক, যেমন কৃষিজীবী মানুষের জীবন, ধর্মীয় অনুষ্ঠান, সামাজিক সম্পর্ক ইত্যাদি ফুটে উঠেছে।
— ‘কিত্তনখোলা’ নাটকটি বাংলাদেশের গ্রামীণ সংস্কৃতির একটি প্রতিনিধিত্বমূলক রচনা হিসেবে গণ্য করা হয়।
**বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:**
✗ ক) যন্ত্রণাদগ্ধ শহরজীবন: ‘কিত্তনখোলা’ গ্রামীণ জীবনকে কেন্দ্র করে রচিত হয়েছে, শহরের জীবন নয়।
✗ খ) স্নিগ্ধ-শ্যামল প্রকৃতির রূপ: নাটকটি প্রকৃতির বর্ণনা নয়, বরং গ্রামীণ সংস্কৃতির বর্ণনা।
✗ ঘ) দেশবিভাগজনিত জীবন যন্ত্রণা: নাটকটির বিষয় দেশবিভাগ নয়, বরং গ্রামীণ জীবনের সংস্কৃতি।
উৎস:
— সেলিম আল দীন রচিত ‘কিত্তনখোলা’ নাটকের মূল গ্রন্থ।
— বাংলাদেশের লোকসংস্কৃতি ও নাট্যকলা বিষয়ক বিভিন্ন গবেষণা গ্রন্থ।
— বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা সাহিত্যের পাঠ্যসূচিতে অন্তর্ভুক্ত।