ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (ক) ব্রজবুলি
বৈষ্ণব সাহিত্যের ইতিহাসে ব্রজবুলি ভাষার গুরুত্ব অপরিসীম। মধ্যযুগে বাংলা সাহিত্যে বৈষ্ণব পদাবলীর বিকাশ ঘটে, যেখানে ব্রজবুলি ভাষা ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। এই ভাষা মূলত বাংলা ও মৈথিলি ভাষার মিশ্রণে গঠিত একটি বিশেষ সাহিত্যিক ভাষা হিসেবে বিবেচিত।
যশোরাজ খান সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:
— তিনি ছিলেন মধ্যযুগের একজন বিশিষ্ট বৈষ্ণব পদকর্তা।
— তিনি ষোড়শ শতাব্দীতে জন্মগ্রহণ করেন এবং বাংলার বৈষ্ণব সাহিত্যের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
— তার রচিত পদাবলী বৈষ্ণব ধর্মতত্ত্ব ও ভক্তিরসের সমৃদ্ধ প্রকাশ ঘটায়।
— তিনি প্রধানত ব্রজবুলি ভাষায় পদ রচনা করেন, যা বৈষ্ণব সাহিত্যের একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য।
— তার রচিত পদাবলীর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো শ্রীকৃষ্ণকীর্তন, শ্রীরাধাকৃষ্ণবিলাস প্রভৃতি।
— তিনি চৈতন্য মহাপ্রভুর সমসাময়িক ছিলেন এবং বৈষ্ণব আন্দোলনের একজন অনুসারী ছিলেন।
— তার রচনা বৈষ্ণব ধর্মের প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:
✗ খ) বাংলা: যশোরাজ খান ব্রজবুলি ভাষায় পদ রচনা করলেও তার পদাবলী বাংলা সাহিত্যের অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়। তবে তিনি সরাসরি বাংলা ভাষায় পদ রচনা করেননি।
✗ গ) সংস্কৃত: সংস্কৃত ছিল প্রাচীন ভারতের ধর্মীয় ও সাহিত্যিক ভাষা। যশোরাজ খান সংস্কৃত ভাষায় পদ রচনা করেননি।
✗ ঘ) হিন্দি: হিন্দি ছিল মধ্যযুগের উত্তর ভারতের একটি প্রধান সাহিত্যিক ভাষা। যশোরাজ খান হিন্দি ভাষায় পদ রচনা করেননি।
উৎস:
— চক্রবর্তী, সুকুমার। *বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস* (মধ্যযুগ)। আনন্দ পাবলিশার্স, ২০১৫।
— সেন, সুকুমার। *বাংলা সাহিত্যের ইতিবৃত্ত* (মধ্যযুগ)। সাহিত্য অকাদেমি, ২০০৯।
— দাশগুপ্ত, শঙ্করীপ্রসাদ। *বাংলা সাহিত্যে বৈষ্ণব পদাবলী*। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়, ১৯৮২।