ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (গ) মুনীর চৌধুরী
‘কবর’ নাটকটি বাংলাদেশের সাহিত্য ও নাট্যজগতে একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে। এটি একটি প্রতিবাদী নাটক হিসেবে পরিচিত, যা পাকিস্তান আমলে বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির প্রতি অবমাননার বিরুদ্ধে লেখা হয়েছিল।
**মুনীর চৌধুরী সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— তিনি ছিলেন একজন বিশিষ্ট বাংলাদেশী নাট্যকার, সাহিত্যিক ও শিক্ষাবিদ।
— তার প্রকৃত নাম ছিল মোহাম্মদ মুনীর চৌধুরী।
— তিনি ১৯২৫ সালের ২৭ নভেম্বর জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর শহীদ হন।
— তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা সাহিত্যে এমএ ডিগ্রি অর্জন করেন।
— তিনি বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
— তার উল্লেখযোগ্য নাটকগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘কবর’, ‘রক্তাক্ত প্রান্তর’, ‘দণ্ডকারণ্য’, ‘পলাশী থেকে ধানমন্ডি’ ইত্যাদি।
— তিনি ভাষা আন্দোলনের একজন সক্রিয় কর্মী ছিলেন এবং বাংলা ভাষার প্রতি তার অবদান অনস্বীকার্য।
— তিনি ছিলেন একজন প্রবন্ধকার ও অনুবাদক। তার অনুবাদকর্মের মধ্যে রয়েছে ‘দ্য স্পিরিট অব ইসলাম’।
— তিনি ১৯৬৬ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার লাভ করেন।
**‘কবর’ নাটক সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— ‘কবর’ নাটকটি রচিত হয়েছিল ১৯৫৩ সালে।
— এটি একটি একাঙ্কিকা নাটক, যার অর্থ এটি একটি মাত্র অঙ্কে সমাপ্ত।
— নাটকটির বিষয়বস্তু হলো পাকিস্তান সরকার কর্তৃক বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি না দেওয়া এবং বাংলা ভাষার প্রতি অবমাননা।
— নাটকটির কেন্দ্রীয় চরিত্র হলো একজন মৃত ব্যক্তির কবর খুঁড়ে তার স্ত্রী তাকে দেখতে আসে এবং তার সঙ্গে কথোপকথন হয়।
— নাটকটির মাধ্যমে লেখক বাংলা ভাষার প্রতি ভালোবাসা ও বাংলা ভাষার অধিকার আদায়ের জন্য মানুষকে উদ্বুদ্ধ করেছেন।
— এটি বাংলা সাহিত্যের একটি অন্যতম শ্রেষ্ঠ প্রতিবাদী নাটক হিসেবে বিবেচিত।
**বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:**
✗ ক) জসীমউদ্দীন: তিনি একজন বিখ্যাত কবি ছিলেন, কিন্তু ‘কবর’ নাটকের লেখক ছিলেন না। তার উল্লেখযোগ্য রচনার মধ্যে রয়েছে ‘নকশী কাঁথার মাঠ’, ‘সোজন বাদিয়ার ঘাট’ ইত্যাদি।
✗ খ) নজরুল ইসলাম: তিনি বাংলা সাহিত্যের একজন মহান কবি ছিলেন, কিন্তু ‘কবর’ নাটকের লেখক ছিলেন না। তার উল্লেখযোগ্য রচনার মধ্যে রয়েছে ‘বিদ্রোহী’, ‘অগ্নিবীণা’, ‘বাঁশি’ ইত্যাদি।
✗ ঘ) দ্বিজেন্দ্রলাল রায়: তিনি একজন বিখ্যাত নাট্যকার ছিলেন, কিন্তু তার রচিত নাটকগুলোর মধ্যে ‘কবর’ অন্তর্ভুক্ত নয়। তার উল্লেখযোগ্য নাটকগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘শাজাহান’, ‘মেবার পতন’, ‘নুরজাহান’ ইত্যাদি।
উৎস:
— বাংলা একাডেমি চরিতাভিধান (২০০৩)
— মুনীর চৌধুরীর রচনাবলী (বাংলা একাডেমি)
— বাংলাদেশের সাহিত্য: ইতিহাস ও পর্যালোচনা (ড. আনিসুজ্জামান)