ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (ঘ) কোনোটি নয়
'কদাকার' শব্দটি উপসর্গযোগে গঠিত নয়, এটি একটি সংস্কৃত মূল শব্দ থেকে উদ্ভূত তৎসম শব্দ।
'কদাকার' সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:
— 'কদাকার' একটি তৎসম শব্দ, যার অর্থ 'কুৎসিত' বা 'বিকৃতাকার'।
— এটি সংস্কৃত 'কদ' (অর্থ: কুৎসিত) এবং 'আকার' (অর্থ: আকৃতি) শব্দ দুটির সমাসবদ্ধ রূপ।
— 'কদাকার' শব্দটি বাংলা ভাষায় সংস্কৃত থেকে সরাসরি গৃহীত হয়েছে, তাই এটি উপসর্গযোগে গঠিত নয়।
— উপসর্গ হলো শব্দের আগে যুক্ত হয়ে নতুন অর্থবোধক শব্দ গঠনকারী অব্যয়। যেমন: 'অতি' + 'মান' = 'অতিমান', 'প্র' + 'বেশ' = 'প্রবেশ' ইত্যাদি।
— 'কদাকার' শব্দে কোনো উপসর্গ নেই, এটি মূলত একটি সমাসজাত শব্দ।
বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:
✗ ক) দেশি উপসর্গযোগে: 'কদাকার' শব্দে কোনো দেশি উপসর্গ ব্যবহৃত হয়নি। দেশি উপসর্গ যেমন 'আ', 'বি', 'স', 'হা' ইত্যাদি বাংলা ভাষার নিজস্ব উপসর্গ। উদাহরণ: 'আঁকা' (আ + আঁকা), 'বিকল' (বি + কল)।
✗ খ) বিদেশি উপসর্গযোগে: 'কদাকার' শবে কোনো বিদেশি উপসর্গ ব্যবহৃত হয়নি। বিদেশি উপসর্গ যেমন 'অতি', 'প্র', 'অপ', 'সম' ইত্যাদি সংস্কৃত বা আরবি থেকে আগত। উদাহরণ: 'অতিমান' (অতি + মান), 'প্রবেশ' (প্র + এষণ)।
✗ গ) সংস্কৃত উপসর্গযোগে: 'কদাকার' শব্দে কোনো সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহৃত হয়নি। সংস্কৃত উপসর্গ যেমন 'অতি', 'প্র', 'অপ', 'নি' ইত্যাদি। উদাহরণ: 'অত্যন্ত' (অতি + অন্ত), 'নিপাত' (নি + পাত)।
উৎস:
— বাংলা একাডেমি ব্যবহারিক বাংলা অভিধান (২০১৬ সংস্করণ)
— রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সম্পাদিত 'বাংলা ভাষার ব্যাকরণ' (বিশ্বভারতী প্রকাশিত)
— ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ রচিত 'বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস'