কোন বীরশ্রেষ্ঠের দেহাবশেষ বাংলাদেশে এনে বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমানের কবরের পাশে সমাহিত করা হয়?
কসিপাহী মোস্তফা কামাল
খল্যান্স নায়েক মুন্সি আবদুর রউফ
গল্যান্স নায়েক নূর মােহাম্মদ শেখ
ঘসিপাহী হামিদুর রহমান✓
ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (ঘ) সিপাহী হামিদুর রহমান
<বীরশ্রেষ্ঠদের সম্পর্কে সাধারণ ভূমিকা>
বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে অসামান্য সাহসিকতা ও আত্মত্যাগের জন্য সাতজন বীরশ্রেষ্ঠ উপাধিতে ভূষিত হন। তাদের মধ্যে একজন হলেন সিপাহী হামিদুর রহমান, যিনি বাংলাদেশে এনে সমাহিত করা সর্বশেষ বীরশ্রেষ্ঠ।
**সিপাহী হামিদুর রহমান সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— তিনি ১৯৫৩ সালের ২ ফেব্রুয়ারি ঝিনাইদহ জেলার মহেশপুর উপজেলার খোর্দ্দ খালিশপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
— তিনি পাকিস্তান সেনাবাহিনীর ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের দ্বিতীয় ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে কর্মরত ছিলেন।
— ১৯৭১ সালের ২৮ অক্টোবর তৃতীয় ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের অধীনে যুদ্ধরত অবস্থায় তিনি শহীদ হন।
— তার দেহাবশেষ ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের হামিদনগরে সমাহিত ছিল, যা পরবর্তীতে বাংলাদেশ সরকারের উদ্যোগে দেশে নিয়ে আসা হয়।
— ২০০৭ সালের ১০ ডিসেম্বর তার দেহাবশেষ বাংলাদেশে এনে বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমানের কবরের পাশে সমাহিত করা হয়।
— তাকে মরণোত্তর বীরশ্রেষ্ঠ উপাধিতে ভূষিত করা হয়।
— তার স্মরণে ঝিনাইদহ জেলায় "বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান স্টেডিয়াম" প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
**বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:**
✗ ক) সিপাহী মোস্তফা কামাল: তিনি ১৯৭১ সালের ১৮ এপ্রিল যশোর জেলার গোয়ালহাটি গ্রামে শহীদ হন। তার দেহাবশেষ বাংলাদেশেই রয়েছে।
✗ খ) ল্যান্স নায়েক মুন্সি আবদুর রউফ: তিনি ১৯৭১ সালের ২০ এপ্রিল পার্বত্য চট্টগ্রামের শালদা নদীর তীরে শহীদ হন। তার দেহাবশেষ বাংলাদেশেই রয়েছে।
✗ গ) ল্যান্স নায়েক নূর মােহাম্মদ শেখ: তিনি ১৯৭১ সালের ৫ সেপ্টেম্বর তিস্তা নদীর তীরে শহীদ হন। তার দেহাবশেষ বাংলাদেশেই রয়েছে।
উৎস:
- বাংলাদেশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়, স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র
- বীরশ্রেষ্ঠদের জীবনী (বাংলাদেশ সরকার প্রকাশিত)
- জাতীয় তথ্য বাতায়ন, বাংলাদেশ সরকার