ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (ঘ) ম্যানগ্রোভ বন
বাংলাদেশের সামুদ্রিক ও উপকূলীয় অঞ্চলে অবস্থিত বিশেষ ধরনের বনাঞ্চল সম্পর্কিত প্রশ্ন এটি। ম্যানগ্রোভ বন সম্পর্কে সঠিক ধারণা থাকলে উত্তরটি সহজেই দেওয়া যায়।
**ম্যানগ্রোভ বন** সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:
— ম্যানগ্রোভ বন হলো এমন এক ধরনের বনাঞ্চল যেগুলো প্রধানত উপকূলীয় এলাকা, নদীর মোহনা, জোয়ার-ভাটা অঞ্চল এবং লবণাক্ত পানির সংস্পর্শে থাকা স্থানে জন্মে।
— এই বনগুলোতে প্রধানত সুন্দরী, গরান, কেওড়া, পশুর প্রভৃতি গাছ জন্মায়, যেগুলো লবণাক্ত পানিতে অভিযোজিত।
— বাংলাদেশের সুন্দরবন বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন হিসেবে পরিচিত, যা গঙ্গা, ব্রহ্মপুত্র ও মেঘনার অববাহিকায় অবস্থিত।
— ম্যানগ্রোভ বন প্রতিনিয়ত লবণাক্ত পানিতে প্লাবিত হয়, কারণ এগুলো জোয়ার-ভাটার মাধ্যমে লবণাক্ত পানি গ্রহণ করে থাকে।
— এই বনগুলো সামুদ্রিক ঝড়, জলোচ্ছ্বাস এবং ভূমিক্ষয় রোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
— ম্যানগ্রোভ বনের উদ্ভিদগুলো লবণাক্ত পরিবেশে বেঁচে থাকার জন্য বিশেষ ধরনের শারীরবৃত্তীয় অভিযোজন ক্ষমতা রাখে, যেমন শ্বাসমূল ও ঠেসমূল।
বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:
✗ ক) পার্বত্য বন: পার্বত্য অঞ্চলে অবস্থিত বনগুলো সাধারণত উচ্চভূমিতে অবস্থিত এবং লবণাক্ত পানির সংস্পর্শে আসে না।
✗ খ) শালবন: শালবন সাধারণত মধ্যম উচ্চতার অঞ্চলে অবস্থিত এবং লবণাক্ত পানির সংস্পর্শে আসে না।
✗ গ) মধুপুর বন: মধুপুর বন বাংলাদেশের উত্তর-মধ্য অঞ্চলে অবস্থিত এবং এটি লবণাক্ত পানির সংস্পর্শে আসে না।
উৎস:
— বাংলাদেশ বন অধিদপ্তর, "বাংলাদেশের বনসমূহ" (২০২০ সংস্করণ)
— সুন্দরবন সংরক্ষণ প্রকল্প, "ম্যানগ্রোভ বন ও এর গুরুত্ব" (২০১৯)
— BCS সাধারণ জ্ঞান গাইড, ৪০তম বিসিএস প্রিলিমিনারি প্রশ্নপত্র বিশ্লেষণ