ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (গ) খেসারী
খেসারী ডালের সাথে ল্যাথারাইজম রোগের সম্পর্ক সম্পর্কে পরীক্ষায় প্রায়শই প্রশ্ন আসে। এই রোগটি মূলত খেসারী ডালের অতিরিক্ত সেবনের ফলে মানবদেহে দেখা দেয়।
খেসারী ডাল সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:
— খেসারী ডালকে ইংরেজিতে *Lathyrus sativus* বলা হয়, যা এক ধরনের শীতকালীন ডালজাতীয় ফসল।
— এটি মূলত ভারতীয় উপমহাদেশ, বিশেষ করে বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানে চাষ করা হয়।
— খেসারী ডালে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন থাকে, তবে এতে *বিটা-এন-অক্সালাইল-এল-আলফা, বিটা-ডাইঅ্যামিনোপ্রোপিওনিক অ্যাসিড (BOAA)* নামক এক ধরনের বিষাক্ত উপাদান থাকে।
— এই BOAA নামক উপাদান মানবদেহে স্নায়ুতন্ত্রকে ক্ষতিগ্রস্ত করে, যার ফলে *ল্যাথারাইজম* নামক রোগ দেখা দেয়।
ল্যাথারাইজম রোগ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:
— ল্যাথারাইজম একটি স্নায়বিক রোগ, যা মূলত খেসারী ডালের অতিরিক্ত সেবনের ফলে দেখা দেয়।
— এই রোগে মানবদেহের নিম্নাঙ্গের পেশী দুর্বল হয়ে পড়ে এবং ধীরে ধীরে পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে যেতে পারে।
— এটি মূলত দীর্ঘদিন ধরে খেসারী ডাল খাওয়ার ফলে মানবদেহে বিষক্রিয়ার কারণে হয়।
— এই রোগের ফলে মানবদেহের স্নায়ুতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যার ফলে চলাফেরা ও স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়।
— ল্যাথারাইজম রোগের প্রধান লক্ষণ হলো পায়ের পেশীর দুর্বলতা, যা ধীরে ধীরে পুরো শরীরে ছড়িয়ে পড়তে পারে।
— এই রোগ প্রতিরোধের জন্য খেসারী ডাল খাওয়ার আগে ভালোভাবে ভিজিয়ে রাখা ও পর্যাপ্ত পরিমাণে রান্না করা প্রয়োজন।
— বাংলাদেশ সরকার খেসারী ডালের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:
✗ ক) অড়হর: অড়হর ডালে বিষাক্ত উপাদান থাকে না, তাই এটি ল্যাথারাইজম রোগের সাথে সম্পর্কিত নয়।
✗ খ) ছোলা: ছোলা ডালেও বিষাক্ত উপাদান থাকে না, তাই এটি ল্যাথারাইজম রোগের সাথে সম্পর্কিত নয়।
✗ ঘ) মটর: মটর ডালেও বিষাক্ত উপাদান থাকে না, তাই এটি ল্যাথারাইজম রোগের সাথে সম্পর্কিত নয়।
উৎস:
— বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের প্রকাশিত গবেষণা পত্র।
— বাংলাদেশ সরকারের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রকাশিত তথ্য সামগ্রী।
— বিভিন্ন সরকারি চাকরির পরীক্ষার প্রশ্নব্যাংক ও সমাধান।