ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (গ) খেসারী
**ভূমিকা:**
বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশে ডাল জাতীয় ফসলের মধ্যে খেসারী ডাল একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস। তবে এটির সাথে সম্পর্কিত একটি মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি হলো ল্যাথারাইজম রোগ। এই রোগটি মূলত খেসারী ডালের অতিরিক্ত সেবনের ফলে মানবদেহে বিষক্রিয়া সৃষ্টি করে।
---
**খেসারী ডাল সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— খেসারী ডালের বৈজ্ঞানিক নাম *Lathyrus sativus*। এটি একটি প্রোটিনসমৃদ্ধ ডাল, যা বিশেষ করে বাংলাদেশ, ভারত, ইথিওপিয়া ও আফ্রিকার কিছু অঞ্চলে ব্যাপকভাবে চাষ করা হয়।
— খেসারী ডালে বিদ্যমান এক ধরনের বিষাক্ত উপাদান হলো **বিটা-এন-অক্সালাইল-এল-আলফা, বিটা-ডাইঅ্যামিনোপ্রোপিওনিক অ্যাসিড (BOAA)** বা **ল্যাথাইরিন**, যা মানবদেহের স্নায়ুতন্ত্রকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।
— দীর্ঘদিন ধরে খেসারী ডাল অতিরিক্ত পরিমাণে খাওয়ার ফলে **ল্যাথারাইজম** নামক রোগ দেখা দেয়। এই রোগে মানুষের পক্ষাঘাত, পঙ্গুত্ব এমনকি মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।
— ল্যাথারাইজম দুই ধরনের হতে পারে:
১. **নিউরোল্যাথারাইজম**: স্নায়ুতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়, ফলে পায়ে দুর্বলতা ও পক্ষাঘাত দেখা দেয়।
২. **অস্টিওল্যাথারাইজম**: হাড় ও জয়েন্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়, ফলে শরীরের বিকৃতি ঘটে।
— বাংলাদেশে ১৯৭০-এর দশকে দুর্ভিক্ষের সময় ব্যাপকভাবে খেসারী ডাল খাওয়ার কারণে অনেক মানুষ ল্যাথারাইজমে আক্রান্ত হয়েছিল।
— খেসারী ডালকে নিরাপদ করার জন্য সাধারণত এটি ভিজিয়ে রাখা, সিদ্ধ করা এবং বারবার ধুয়ে খাওয়া হয়। এছাড়া বৈজ্ঞানিকভাবে খেসারী ডাল থেকে বিষাক্ত উপাদান দূর করার জন্য বিশেষ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়।
— বাংলাদেশ সরকার খেসারী ডালের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।
---
**বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:**
✗ ক) অড়হর: অড়হর ডালের বৈজ্ঞানিক নাম *Cajanus cajan*। এটি সাধারণত নিরাপদ হিসেবে বিবেচিত হয় এবং ল্যাথারাইজম রোগের সাথে এর কোনো সম্পর্ক নেই।
✗ খ) ছোলা: ছোলার বৈজ্ঞানিক নাম *Cicer arietinum*। এটি একটি পুষ্টিকর ডাল হলেও ল্যাথারাইজম রোগের সাথে এর কোনো সম্পর্ক নেই।
✗ ঘ) মটর: মটরের বৈজ্ঞানিক নাম *Pisum sativum*। এটি একটি সাধারণ ডাল হলেও ল্যাথারাইজম রোগের সাথে এর কোনো সম্পর্ক নেই।
---
**উৎস:**
১. *খাদ্য ও পুষ্টিবিজ্ঞান*, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ময়মনসিংহ।
২. *বাংলাদেশের কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা*, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (BBS)।
৩. *ল্যাথারাইজম: কারণ ও প্রতিকার*, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, বাংলাদেশ সরকার।