ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (ক) থাইল্যান্ড
থাইল্যান্ড দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার একমাত্র দেশ হিসেবে ইতিহাসে কখনো বিদেশী শক্তির উপনিবেশে পরিণত হয়নি। এর স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের ইতিহাস অন্যান্য প্রতিবেশী দেশ থেকে আলাদা।
**থাইল্যান্ড সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— থাইল্যান্ডের পুরাতন নাম ছিল **সিয়াম**। ১৯৩৯ সালে নাম পরিবর্তন করে থাইল্যান্ড রাখা হয়, যার অর্থ "স্বাধীন মানুষের দেশ"।
— থাইল্যান্ড ইউরোপীয় ঔপনিবেশিক শক্তি (ব্রিটিশ, ফরাসি, ওলন্দাজ প্রভৃতি) দ্বারা কখনো শাসিত হয়নি। অন্যান্য দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলো যেমন ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, মিয়ানমার প্রভৃতি ইউরোপীয় শক্তির উপনিবেশ ছিল।
— থাইল্যান্ডের রাজধানী **ব্যাংকক** দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম প্রধান শহর।
— থাইল্যান্ডের সরকার ব্যবস্থা **সাংবিধানিক রাজতন্ত্র**। রাজা ভূমিকা পালন করলেও প্রকৃত ক্ষমতা প্রধানমন্ত্রী ও সরকারের হাতে থাকে।
— থাইল্যান্ডের মুদ্রার নাম **বাত (THB)**।
— থাইল্যান্ডের জনসংখ্যা প্রায় **৭ কোটি** এবং এটি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি (ইন্দোনেশিয়ার পরে)।
— থাইল্যান্ডের প্রধান ধর্ম **থেরবাদ বৌদ্ধ ধর্ম**, যা জনসংখ্যার প্রায় ৯৫% অনুসরণ করে।
— থাইল্যান্ডের ইতিহাসে বিদেশী শক্তির প্রভাব থাকলেও তারা কখনো পুরোপুরি উপনিবেশে পরিণত হয়নি। তবে ১৯ শতকে ব্রিটিশ ও ফরাসিদের সাথে চুক্তির মাধ্যমে কিছু অঞ্চল হারায়, কিন্তু স্বাধীনতা বজায় থাকে।
---
**বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:**
✗ খ) মিয়ানমার: মিয়ানমার (তৎকালীন বার্মা) ব্রিটিশ উপনিবেশ ছিল। ব্রিটিশরা ১৮২৪ থেকে ১৯৪৮ সাল পর্যন্ত মিয়ানমার শাসন করে।
✗ গ) ইন্দোনেশিয়া: ইন্দোনেশিয়া ডাচ উপনিবেশ ছিল। ডাচ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ও পরবর্তীতে নেদারল্যান্ডস সরকার প্রায় ৩৫০ বছর ধরে ইন্দোনেশিয়ায় শাসন চালায়।
✗ ঘ) মালয়েশিয়া: মালয়েশিয়া ব্রিটিশ উপনিবেশ ছিল। ব্রিটিশরা ১৮শ শতক থেকে শুরু করে ১৯৫৭ সালে স্বাধীনতা প্রদান পর্যন্ত মালয় উপদ্বীপ ও উত্তর বোর্নিও শাসন করে।
---
উৎস:
- CIA World Factbook - Thailand (https://www.cia.gov/the-world-factbook/countries/thailand/)
- Britannica - Thailand (https://www.britannica.com/place/Thailand)
- "A History of Thailand" by Chris Baker and Pasuk Phongpaichit
- "Colonialism in Southeast Asia" by David Chandler