ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (খ) বৃত্রসংহার
বাংলা সাহিত্যের মহাকাব্য সম্পর্কিত পরীক্ষা-প্রাসঙ্গিক ভূমিকা:
বাংলা সাহিত্যে মহাকাব্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সাহিত্যিক ধারা। মহাকাব্য সাধারণত দীর্ঘ ও মহৎ বিষয়বস্তু নিয়ে রচিত হয়, যেখানে মহান কোনো ব্যক্তির কাহিনী বা কোনো জাতির ইতিহাস বর্ণিত থাকে। বাংলা সাহিত্যে মহাকাব্য ধারার সূচনা করেন কবি মাইকেল মধুসূদন দত্ত। তাঁর রচিত মহাকাব্য "মেঘনাদবধ কাব্য" বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক মহাকাব্য হিসেবে বিবেচিত।
**বৃত্রসংহার সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— "বৃত্রসংহার" একটি মহাকাব্য।
— এটি রচনা করেন কবি হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়।
— মহাকাব্যটি ১৮৭৫-১৮৭৭ সালের মধ্যে প্রকাশিত হয়।
— মহাকাব্যটির বিষয়বস্তু হলো পুরাণের দেবতা ইন্দ্র কর্তৃক বৃত্র নামক অসুরের বধের কাহিনী।
— মহাকাব্যটি ১২টি সর্গে বিভক্ত।
— মহাকাব্যটিতে সংস্কৃত মহাকাব্যের অনুসরণে মহৎ আদর্শ ও বীরত্বের বর্ণনা রয়েছে।
— হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়ের অন্যান্য উল্লেখযোগ্য রচনার মধ্যে রয়েছে "চিন্তাতরঙ্গিনী" ও "বীরবাহু"।
বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:
✗ ক) অবকাশ রঞ্জিনী: এটি কবি বিহারীলাল চক্রবর্তীর একটি কাব্যগ্রন্থ, যা মহাকাব্য নয়, বরং গীতিকাব্য।
✗ গ) বিরহ বিলাপ: এটি কবি বিহারীলাল চক্রবর্তীর একটি গীতিকাব্য, মহাকাব্য নয়।
✗ ঘ) বীরাঙ্গনা কাব্য: এটি কবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের একটি পত্রকাব্য, মহাকাব্য নয়।
উৎস:
— বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
— বাংলা সাহিত্যের মহাকাব্য ধারা, ড. আনিসুজ্জামান
— বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. সৌরীন্দ্রমোহন মুখোপাধ্যায়