ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (গ) রেনিন
পাকস্থলীতে খাদ্য পরিপাক প্রক্রিয়ায় জারক রসের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে দুগ্ধজাত খাবার হজমে নির্দিষ্ট ধরনের এনজাইম কাজ করে, যা দুধের প্রোটিনকে ভেঙে সহজপাচ্য করে তোলে।
**রেনিন সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— রেনিন একটি প্রোটিওলাইটিক এনজাইম, যা প্রধানত স্তন্যপায়ী প্রাণীদের পাকস্থলীতে পাওয়া যায়।
— এটি দুধের প্রধান প্রোটিন কেসিনকে ভেঙে দেয় এবং দুধকে জমাট বাঁধিয়ে ফার্মেন্টেড পণ্য তৈরিতে সাহায্য করে।
— মানব শিশুদের পাকস্থলীতে রেনিন উৎপন্ন হয়, যা দুধ হজমে সহায়ক। প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে এটি কম পরিমাণে থাকে।
— রেনিনকে *রেনিনেট* বা *কাইমোসিন* নামেও অভিহিত করা হয়।
— এটি পেপসিনের মতো কাজ করলেও নির্দিষ্টভাবে দুধের প্রোটিনকে টার্গেট করে।
**পেপসিন সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— পেপসিন পাকস্থলীর প্রধান প্রোটিওলাইটিক এনজাইম।
— এটি প্রোটিনকে পেপটাইড এবং অ্যামিনো অ্যাসিডে ভেঙে দেয়।
— তবে এটি দুগ্ধ জমাট বাঁধাতে সাহায্য করে না, বরং সাধারণ প্রোটিন হজমে ভূমিকা রাখে।
**এমাইলেজ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— এমাইলেজ একটি কার্বোহাইড্রেট-ডাইজেস্টিং এনজাইম।
— এটি স্টার্চ এবং গ্লাইকোজেনকে সরল শর্করায় ভেঙে দেয়।
— এটি মুখগহ্বর এবং অগ্ন্যাশয়ে উৎপন্ন হয়, পাকস্থলীতে কাজ করে না।
**ট্রিপসিন সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— ট্রিপসিন অগ্ন্যাশয় থেকে নিঃসৃত একটি প্রোটিওলাইটিক এনজাইম।
— এটি ক্ষুদ্রান্ত্রে প্রোটিনকে ভেঙে অ্যামিনো অ্যাসিডে পরিণত করে।
— এটি পাকস্থলীতে উৎপন্ন হয় না এবং দুগ্ধ জমাট বাঁধাতে ভূমিকা রাখে না।
**বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:**
✗ (ক) পেপসিন: এটি প্রোটিন হজম করে কিন্তু দুগ্ধ জমাট বাঁধাতে সাহায্য করে না।
✗ (খ) এমাইলেজ: এটি শর্করা হজমে সাহায্য করে, প্রোটিন বা দুগ্ধ হজমে ভূমিকা রাখে না।
✗ (ঘ) ট্রিপসিন: এটি ক্ষুদ্রান্ত্রে প্রোটিন হজম করে, পাকস্থলীতে দুগ্ধ জমাট বাঁধাতে সাহায্য করে না।
**উৎস:**
— *Human Physiology* by Lauralee Sherwood (Chapter: Digestion)
— *Biology* by Campbell and Reece (Chapter: Nutrition and Digestion)
— *পৌষ্টিকতত্ত্ব ও খাদ্যবিজ্ঞান* (বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রকাশিত)