ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (গ) মসুর ডাল
খাদ্যে প্রোটিনের পরিমাণ নির্ধারণে বিভিন্ন খাদ্যের পুষ্টিমান বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন। বাংলাদেশের সরকারি চাকরির পরীক্ষাগুলোতে সাধারণ জ্ঞানের অংশ হিসেবে খাদ্যের পুষ্টিমান সম্পর্কিত প্রশ্ন প্রায়ই আসে। প্রোটিন মানবদেহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি পুষ্টি উপাদান, যা পেশি গঠন, টিস্যু মেরামত এবং বিভিন্ন শারীরিক কার্যক্রমে সহায়তা করে।
**মসুর ডাল সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— মসুর ডাল হলো এক ধরনের শিমজাতীয় উদ্ভিদের বীজ, যা প্রোটিনের একটি উল্লেখযোগ্য উৎস হিসেবে পরিচিত।
— প্রতি ১০০ গ্রাম মসুর ডালে প্রায় **২৫ গ্রাম প্রোটিন** থাকে, যা অন্যান্য সাধারণ খাদ্যের তুলনায় অনেক বেশি।
— মসুর ডালে ফাইবার, আয়রন, ফোলেট এবং বিভিন্ন খনিজ পদার্থও থাকে, যা স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী।
— এটি উদ্ভিদভিত্তিক প্রোটিনের একটি উৎকৃষ্ট উদাহরণ, যা নিরামিষভোজীদের জন্য আদর্শ।
**ভাত সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— ভাত প্রধানত কার্বোহাইড্রেটের উৎস হিসেবে পরিচিত।
— প্রতি ১০০ গ্রাম ভাতে প্রায় **২-৩ গ্রাম প্রোটিন** থাকে, যা মসুর ডালের তুলনায় অনেক কম।
— ভাত মূলত শক্তির উৎস হিসেবে ব্যবহৃত হয়, প্রোটিনের উৎস হিসেবে নয়।
**গরুর মাংস সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— গরুর মাংস প্রোটিনের একটি সমৃদ্ধ উৎস, তবে এটি প্রাণিজ প্রোটিন।
— প্রতি ১০০ গ্রাম গরুর মাংসে প্রায় **২৬ গ্রাম প্রোটিন** থাকে, যা মসুর ডালের কাছাকাছি।
— তবে গরুর মাংসে স্যাচুরেটেড ফ্যাট বেশি থাকে, যা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
**ময়দা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— ময়দা মূলত গম থেকে তৈরি হয় এবং প্রধানত কার্বোহাইড্রেটের উৎস।
— প্রতি ১০০ গ্রাম ময়দায় প্রায় **১০-১২ গ্রাম প্রোটিন** থাকে, যা মসুর ডালের তুলনায় কম।
— ময়দা থেকে তৈরি খাবার যেমন রুটি বা পিঠা প্রোটিনের উৎস হিসেবে তেমন কার্যকরী নয়।
**বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:**
✗ ক) ভাত: ভাত প্রধানত কার্বোহাইড্রেটের উৎস, প্রোটিনের পরিমাণ খুবই কম।
✗ খ) গরুর মাংস: গরুর মাংসে প্রোটিন বেশি থাকলেও এটি প্রাণিজ উৎস এবং স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
✗ ঘ) ময়দা: ময়দা প্রধানত কার্বোহাইড্রেটের উৎস, প্রোটিনের পরিমাণ তুলনামূলক কম।
উৎস:
- বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদ (BCSIR) এর পুষ্টি উপাত্ত।
- জাতীয় পুষ্টি পরিষদের প্রকাশিত খাদ্য ও পুষ্টি নির্দেশিকা।
- বিভিন্ন সরকারি পরীক্ষার প্রশ্নব্যাংক ও সমাধান।