ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (ঘ) বায়বীয় পদার্থে
**ভূমিকা:**
শব্দ হলো এক ধরনের শক্তি যা মাধ্যমের মধ্য দিয়ে তরঙ্গ হিসেবে প্রবাহিত হয়। মাধ্যমের ভৌত অবস্থা (কঠিন, তরল, গ্যাসীয়) শব্দের গতিকে প্রভাবিত করে। বাংলাদেশের সরকারি চাকরির পরীক্ষাগুলোতে (BCS, Bank, Primary, NTRCA) পদার্থবিজ্ঞানের এই বিষয়টি প্রায়শই আসে।
**শব্দের গতি সম্পর্কিত বিস্তারিত তথ্য:**
— শব্দের গতি মাধ্যমের ঘনত্ব ও স্থিতিস্থাপকতার উপর নির্ভর করে। মাধ্যম যত ঘন হয়, শব্দের গতি তত বেশি হয়।
— শূণ্যতায় (বায়ুশূন্য স্থানে) শব্দের গতি থাকে **০** (শূন্য), কারণ সেখানে কোনো মাধ্যম থাকে না যার মধ্য দিয়ে শব্দ তরঙ্গ প্রবাহিত হতে পারে।
— **কঠিন পদার্থে** শব্দের গতি সবচেয়ে বেশি। উদাহরণ: ইস্পাতের মধ্য দিয়ে শব্দের গতি প্রায় **৫,১০০ মিটার/সেকেন্ড**।
— **তরল পদার্থে** শব্দের গতি কঠিন পদার্থের তুলনায় কম। উদাহরণ: পানির মধ্য দিয়ে শব্দের গতি প্রায় **১,৪৮০ মিটার/সেকেন্ড**।
— **বায়বীয় পদার্থে** (যেমন বাতাস) শব্দের গতি সবচেয়ে কম। উদাহরণ: সাধারণ তাপমাত্রায় বাতাসের মধ্য দিয়ে শব্দের গতি প্রায় **৩৪৩ মিটার/সেকেন্ড**।
---
**বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:**
✗ **ক) শূণ্যতায়**:
— শূণ্যতায় শব্দের গতি **০** (শূন্য) হওয়ায় এটি সঠিক উত্তর নয়। প্রশ্নটি ছিল "সবচাইতে কম" গতি, যা শূণ্যতায় না থাকায় এটি ভুল।
✗ **খ) কঠিন পদার্থে**:
— কঠিন পদার্থে শব্দের গতি সবচেয়ে বেশি হওয়ায় এটি ভুল উত্তর। উদাহরণ: ইস্পাতে শব্দের গতি প্রায় **৫,১০০ মি/সে**।
✗ **গ) তরল পদার্থে**:
— তরল পদার্থে শব্দের গতি কঠিন পদার্থের তুলনায় কম হলেও বায়বীয় পদার্থের তুলনায় বেশি। উদাহরণ: পানিতে শব্দের গতি **১,৪৮০ মি/সে**, যা বাতাসের (**৩৪৩ মি/সে**) চেয়ে বেশি।
---
**উৎস:**
1. *পদার্থবিজ্ঞান* – ড. শাহজাহান মোল্লা (৯ম-১০ম শ্রেণি)
2. *সাধারণ বিজ্ঞান* – এনসিটিবি প্রকাশিত পাঠ্যবই
3. *BCS Preliminary Science Guide* – এমপি থ্রি প্রকাশনী