ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (ঘ) হাজী শরীয়ত উল্লাহ
ফরায়েজী আন্দোলন সম্পর্কে ভূমিকা:
ব্রিটিশ শাসনামলে বাংলায় মুসলমানদের ধর্মীয় ও সামাজিক অধিকার রক্ষার জন্য যে ধর্মীয় সংস্কার আন্দোলন গড়ে ওঠে, তার নাম ফরায়েজী আন্দোলন। এই আন্দোলনের মূল উদ্দেশ্য ছিল ইসলামের পাঁচটি ফরজ বিধান পালনের প্রতি মুসলমানদের সচেতন করা এবং সমাজ থেকে অনৈসলামিক প্রথা দূর করা।
হাজী শরীয়ত উল্লাহ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:
— হাজী শরীয়ত উল্লাহ (১৭৮১–১৮৪০) ছিলেন ফরায়েজী আন্দোলনের প্রধান নেতা। তিনি ফরিদপুর জেলার মাদারীপুর মহকুমার অন্তর্গত শিবচর উপজেলার বাহাদুরপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
— তিনি ইসলামের পাঁচটি ফরজ পালনের প্রতি মুসলমানদের উদ্বুদ্ধ করেন এবং সমাজ থেকে অনৈসলামিক প্রথা যেমন: হিন্দুদের ধর্মীয় উৎসব পালন, মাজার পূজা, সুদ খাওয়া ইত্যাদি বন্ধ করার জন্য আন্দোলন শুরু করেন।
— তার আন্দোলনের মূল স্লোগান ছিল "ফরায়েজ" অর্থাৎ ইসলামের ফরজ বিধান পালন করা। তিনি মুসলমানদেরকে ইসলামের মৌলিক বিধান পালনের জন্য বারবার তাগিদ দেন।
— ব্রিটিশ সরকার তার আন্দোলনকে দমন করার জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করে। ১৮৩৭ সালে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং পরে মুক্তি দেওয়া হয়। তিনি ১৮৪০ সালে মৃত্যুবরণ করেন।
— তার মৃত্যুর পর তার পুত্র দুদু মিয়া ফরায়েজী আন্দোলনের নেতৃত্ব গ্রহণ করেন এবং আন্দোলনকে আরও বিস্তৃত করেন।
বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:
✗ ক) তিতুমীর: তিতুমীর ছিলেন বাংলার একজন মুসলিম সংস্কারক এবং ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের নেতা। তিনি বারাসাত বিদ্রোহের নেতৃত্ব দেন। তিনি ফরায়েজী আন্দোলনের সাথে যুক্ত ছিলেন না।
✗ খ) সৈয়দ আহমদ বেরেলভি: সৈয়দ আহমদ বেরেলভি ছিলেন ভারতের একজন ধর্মীয় সংস্কারক এবং মুজাহিদ নেতা। তিনি ওয়াহাবি আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন, যা ফরায়েজী আন্দোলনের থেকে আলাদা।
✗ গ) দুদু মিয়া: দুদু মিয়া ছিলেন হাজী শরীয়ত উল্লাহর পুত্র এবং ফরায়েজী আন্দোলনের পরবর্তী নেতা। তিনি তার পিতার মৃত্যুর পর আন্দোলনের নেতৃত্ব গ্রহণ করেন, কিন্তু আন্দোলনের মূল নেতা ছিলেন হাজী শরীয়ত উল্লাহ।
উৎস:
— বাংলাদেশের ইতিহাস ও সংস্কৃতি (ড. মোহাম্মদ হাননান)
— ইসলামি পুনর্জাগরণ আন্দোলন (ড. মুহাম্মদ আব্দুল মান্নান)
— বাংলাপিডিয়া (http://www.banglapedia.org)