ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (গ) উট
মরুভূমির প্রতিকূল পরিবেশে মানুষের যাতায়াত ও পরিবহনের জন্য যেসব প্রাণী ব্যবহৃত হয়, তাদের মধ্যে উট অন্যতম। এর বিশেষ শারীরিক ও অভিযোজিত বৈশিষ্ট্যের কারণে একে "মরুভূমির জাহাজ" নামে অভিহিত করা হয়।
**উট সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— উট (*Camelus dromedarius* ও *Camelus bactrianus*) হলো স্তন্যপায়ী প্রাণী যা প্রধানত মরুভূমি অঞ্চলে বসবাস করে।
— উটের দুটি প্রধান প্রজাতি রয়েছে:
— **এক-কুঁজ বিশিষ্ট উট** (*Camelus dromedarius*): প্রধানত উত্তর আফ্রিকা, মধ্য প্রাচ্য ও দক্ষিণ এশিয়ায় দেখা যায়।
— **দুই-কুঁজ বিশিষ্ট উট** (*Camelus bactrianus*): মধ্য এশিয়া ও চীনের মরুভূমিতে পাওয়া যায়।
— উটের দেহের বিশেষ অভিযোজন:
— দীর্ঘ পা ও প্রশস্ত পদতল থাকায় বালিতে সহজে ডুবে না।
— চোখের পাতা ঘন ও দীর্ঘ হওয়ায় বালি ঢুকে যাওয়া প্রতিরোধ করে।
— নাকের ছিদ্র বন্ধ হয়ে যেতে পারে, যাতে বালি প্রবেশ না করে।
— কুঁজে জমা থাকে চর্বি, যা শক্তির উৎস হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
— উটের খাদ্যাভ্যাস:
— প্রধানত ঘাস, পাতা, খেজুর ইত্যাদি খেয়ে জীবনধারণ করে।
— প্রয়োজনে কাঁটাযুক্ত গাছও খেতে পারে।
— উটের গুরুত্ব:
— মরুভূমিতে পরিবহনের প্রধান মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
— দুধ, মাংস ও চামড়ার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।
— প্রাচীনকাল থেকেই আরব ও উত্তর আফ্রিকার মানুষের জীবিকার উৎস।
**বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:**
✗ ক) ঘোড়া: ঘোড়া মরুভূমিতে চলাচল করতে পারে, কিন্তু এর শারীরিক অভিযোজন উটের মতো নয়। ঘোড়া দ্রুত দৌড়াতে পারে, কিন্তু দীর্ঘ সময় ধরে মরুভূমিতে চলাচলের উপযোগী নয়।
✗ খ) বলগা হরিণ: বলগা হরিণ প্রধানত শীতল অঞ্চলে বসবাস করে। এর শারীরিক গঠন মরুভূমির উপযোগী নয়।
✗ ঘ) খেচর: খেচর বলতে সাধারণত উড়ন্ত প্রাণীকে বোঝায়, যেমন পাখি। এটি কোনো স্থলচর প্রাণী নয়, তাই মরুভূমির পরিবহন মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হয় না।
উৎস:
— *Encyclopedia Britannica* (Camel)
— *National Geographic* (Camels: The Desert's Ships)
— বাংলাদেশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রাথমিক বিজ্ঞান পাঠ্যপুস্তক (মরুভূমির প্রাণী সম্পর্কিত অধ্যায়)