ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (গ) চর্যাপদ
<সাধারণ জ্ঞানের সাহিত্য বিষয়ক প্রশ্নে সাহিত্যকর্ম ও তার বৈশিষ্ট্য সম্পর্কিত জ্ঞান যাচাই করা হয়>
**চর্যাপদ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— চর্যাপদ বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনতম নিদর্শন হিসেবে পরিচিত, যা খ্রিস্টীয় দশম থেকে দ্বাদশ শতাব্দীর মধ্যে রচিত।
— এটি মূলত বৌদ্ধ সহজিয়া সাধকদের দ্বারা রচিত গান বা পদাবলির সংকলন।
— চর্যাপদের ভাষা ছিল অর্ধমাগধী প্রাকৃত ও প্রাচীন বাংলা ভাষার মিশ্রণ, যা পরবর্তীতে বাংলা ভাষার বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
— চর্যাপদের অন্যতম উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হলো **সান্ধ্যভাষার প্রয়োগ**। সান্ধ্যভাষা হলো এমন এক ধরনের গুপ্ত ভাষা যেখানে প্রতীক ও রূপকের মাধ্যমে গূঢ় অর্থ প্রকাশ করা হয়। উদাহরণস্বরূপ, "ডোম্বি" শব্দটি দ্বারা সাধকদের স্ত্রী বা সঙ্গিনীকে বোঝানো হতো, যা আসলে বৌদ্ধ তন্ত্রের দেবীকে নির্দেশ করতো।
— চর্যাপদের পদগুলোতে ধর্মীয় ও দার্শনিক বিষয়াবলি গুপ্ত ভাষায় প্রকাশিত হয়েছে, যা সাধারণ মানুষের কাছে দুর্বোধ্য ছিল।
**পদাবলী সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— পদাবলী হলো মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধারা, যা মূলত বৈষ্ণব পদাবলী নামে পরিচিত।
— চৈতন্য মহাপ্রভুর আবির্ভাবের পর শ্রীচৈতন্যের ভক্তরা বৈষ্ণব ধর্ম প্রচারের জন্য পদাবলী রচনা করেন।
— পদাবলীর ভাষা ছিল সহজ সরল বাংলা, যার মাধ্যমে ভক্তি ও প্রেমের আদর্শ প্রচার করা হতো।
— পদাবলীতে সান্ধ্যভাষার প্রয়োগ ছিল না; বরং এটি ছিল সরল ও স্পষ্ট ভাষায় রচিত।
**গীতগোবিন্দ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— গীতগোবিন্দ হলো দ্বাদশ শতাব্দীতে জয়দেব রচিত সংস্কৃত ভাষার একটি বিখ্যাত কাব্য।
— এটি মূলত কৃষ্ণ ও রাধার প্রেমের কাহিনী নিয়ে রচিত।
— গীতগোবিন্দের ভাষা ছিল সংস্কৃত, এবং এটির মধ্যে সান্ধ্যভাষার প্রয়োগ ছিল না।
— এটি মূলত সঙ্গীত ও কাব্যের মিশ্রণে রচিত হয়েছিল।
**চৈতন্যজীবনী সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— চৈতন্যজীবনী হলো শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর জীবনীমূলক গ্রন্থ।
— এটি বাংলা ও সংস্কৃত উভয় ভাষায় রচিত হয়েছে।
— চৈতন্যজীবনীতে সান্ধ্যভাষার প্রয়োগ ছিল না; বরং এটি ছিল সরল ও স্পষ্ট ভাষায় রচিত জীবনী সাহিত্য।
— চৈতন্যজীবনী মূলত ভক্তি আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে রচিত হয়েছিল।
---
**বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:**
✗ ক) পদাবলী: পদাবলীতে সান্ধ্যভাষার প্রয়োগ ছিল না; এটি ছিল সরল ও স্পষ্ট ভাষায় রচিত বৈষ্ণব পদাবলী।
✗ খ) গীতগোবিন্দ: গীতগোবিন্দ সংস্কৃত ভাষায় রচিত এবং সান্ধ্যভাষার প্রয়োগ ছিল না; এটি ছিল সরল প্রেমের কাহিনী।