ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (গ) ২০১৪
ক্রিমিয়া দখল সম্পর্কিত আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট:
ক্রিমিয়া দখল ছিল রাশিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূ-রাজনৈতিক পদক্ষেপ, যা ইউক্রেনের অভ্যন্তরীণ সংকটকে কেন্দ্র করে সংঘটিত হয়। এটি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ব্যাপক সমালোচনার মুখোমুখি হয় এবং বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞা আরোপিত হয়।
ক্রিমিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:
— **ভৌগোলিক অবস্থান**: ক্রিমিয়া হলো ইউক্রেনের দক্ষিণ উপদ্বীপ অঞ্চল, যার দক্ষিণে কৃষ্ণ সাগর অবস্থিত। এর রাজধানী সেভাস্তোপল একটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও বাণিজ্যিক কেন্দ্র।
— **ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট**: ক্রিমিয়া ঐতিহাসিকভাবে বিভিন্ন সাম্রাজ্যের অধীনে ছিল, যেমন অটোমান সাম্রাজ্য, রাশিয়ান সাম্রাজ্য, সোভিয়েত ইউনিয়ন ইত্যাদি। ১৯৫৪ সালে সোভিয়েত নেতা নিকিতা ক্রুশ্চেভের নির্দেশে ক্রিমিয়া ইউক্রেনকে প্রদান করা হয়।
— **ক্রিমিয়ার স্বায়ত্তশাসন**: ইউক্রেনের সংবিধান অনুসারে ক্রিমিয়া স্বায়ত্তশাসিত প্রজাতন্ত্র হিসেবে স্বীকৃত ছিল, যার নিজস্ব সরকার ও আইনসভা ছিল।
— **২০১৪ সালের সংকট**: ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভিক্টর ইয়ানুকোভিচের বিরুদ্ধে জনবিক্ষোভ শুরু হয়, যা ইউরোমাইদান বিপ্লব নামে পরিচিত। এই বিপ্লবের ফলে ইয়ানুকোভিচ ক্ষমতাচ্যুত হন এবং রাশিয়া ক্রিমিয়াকে নিজের অধীনে নেওয়ার সুযোগ পায়।
ক্রিমিয়া দখলের ঘটনা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:
— **কারণ**: ইউক্রেনের ক্ষমতাচ্যুত সরকারের প্রতি রাশিয়ার অসন্তোষ এবং ক্রিমিয়ার অধিকাংশ জনগণ রুশভাষী হওয়ায় রাশিয়া ক্রিমিয়াকে নিজের অধীনে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।
— **প্রক্রিয়া**: রাশিয়া ক্রিমিয়ার স্থানীয় সরকারকে সমর্থন করে এবং একটি বিতর্কিত গণভোট আয়োজন করে, যেখানে অধিকাংশ ভোট ক্রিমিয়ার রাশিয়ার সাথে যুক্ত হওয়ার পক্ষে যায়।
— **ফলাফল**: ২০১৪ সালের ১৮ মার্চ রাশিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে ক্রিমিয়াকে নিজের ফেডারেল জেলা হিসেবে ঘোষণা করে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এই পদক্ষেপকে অবৈধ ঘোষণা করে এবং ইউক্রেনের সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান জানাতে বলে।
— **পরিণতি**: রাশিয়ার বিরুদ্ধে বিভিন্ন দেশ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে এবং রাশিয়া বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা থেকে বহিষ্কৃত হয়। ক্রিমিয়া এখনও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দ্বারা ইউক্রেনের অংশ হিসেবে স্বীকৃত।
বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:
✗ ক) ২০১০: ২০১০ সালে ইউক্রেনে কোনো উল্লেখযোগ্য রাজনৈতিক সংকট ছিল না, যা ক্রিমিয়া দখলের কারণ হতে পারে।
✗ খ) ২০১২: ২০১২ সালে ইউক্রেনে ইউরো-২০১২ ফুটবল টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হয়, কিন্তু রাজনৈতিকভাবে ক্রিমিয়া দখলের কোনো ঘটনা ঘটেনি।
✗ ঘ) ২০১৬: ২০১৬ সালেও ক্রিমিয়া দখলের কোনো উল্লেখযোগ্য ঘটনা ঘটেনি। এ সময়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় রাশ