ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (ঘ) অনাবৃষ্টি
বাংলা উপসর্গ হলো এমন কিছু অব্যয় বা অব্যয়জাত শব্দাংশ যা শব্দের পূর্বে যুক্ত হয়ে নতুন অর্থবোধক শব্দ গঠন করে। বাংলা উপসর্গের সংখ্যা সাধারণত ২১ থেকে ২২টি বলে ধরা হয়, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হলো: অ, অনা, অতি, অপি, অভি, পরি, প্র, প্রতি, বি, সু, কু ইত্যাদি।
<অনাবৃষ্টি শব্দ গঠনে বাংলা উপসর্গ ব্যবহারের প্রাসঙ্গিক ভূমিকা>
বাংলা ভাষায় উপসর্গ ব্যবহারের মাধ্যমে শব্দের অর্থ পরিবর্তন বা নতুন শব্দ গঠন করা হয়। "অনাবৃষ্টি" শব্দটিতে "অনা" উপসর্গটি ব্যবহৃত হয়েছে, যার অর্থ 'না' বা 'অভাব'। এই উপসর্গটি যুক্ত হয়ে মূল শব্দ "বৃষ্টি" থেকে নতুন অর্থবোধক শব্দ গঠন করেছে।
<অনা উপসর্গ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য>
— "অনা" একটি বাংলা উপসর্গ যার অর্থ 'অভাব', 'না', বা 'ব্যতীত'। এটি মূল শব্দের পূর্বে যুক্ত হয়ে শব্দের অর্থ পরিবর্তন করে।
— উদাহরণ: অনাবৃষ্টি (বৃষ্টির অভাব), অনাহার (খাদ্যের অভাব), অনাদর (আদরের অভাব)।
— "অনা" উপসর্গটি সংস্কৃত উপসর্গ "অন্" থেকে এসেছে, যার অর্থও 'না' বা 'অভাব'।
— বাংলা ভাষায় উপসর্গ ব্যবহারের মাধ্যমে শব্দ গঠনের নিয়ম অনুসারে "অনা" উপসর্গটি যুক্ত হয়ে "অনাবৃষ্টি" শব্দটি গঠিত হয়েছে।
<অনাবৃষ্টি শব্দ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য>
— অনাবৃষ্টি শব্দের অর্থ হলো 'বৃষ্টির অভাব' বা 'খরা'। এটি প্রকৃতির একটি অবস্থা যেখানে পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত না হওয়ায় কৃষি ও পরিবেশের উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।
— বাংলা ভাষায় "অনা" উপসর্গটি যুক্ত হয়ে গঠিত অন্যান্য শব্দের মধ্যে অনাহার, অনাদর, অনাবশ্যক ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।
— অনাবৃষ্টি শব্দটি সাধারণত প্রকৃতি ও পরিবেশ বিষয়ক আলোচনায় ব্যবহৃত হয়।
বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:
✗ ক) পরাকাষ্ঠা: "পরি" সংস্কৃত উপসর্গ, বাংলা উপসর্গ নয়। এটি সংস্কৃত থেকে আগত উপসর্গ যা 'সম্পূর্ণ' বা 'চরম' অর্থ প্রকাশ করে।
✗ খ) অভিব্যক্তি: "অভি" সংস্কৃত উপসর্গ, বাংলা উপসর্গ নয়। এটি সংস্কৃত থেকে আগত উপসর্গ যা 'সম্মুখে', 'প্রতি' বা 'সম্পূর্ণ' অর্থ প্রকাশ করে।
✗ গ) পরিশ্রান্ত: "পরি" সংস্কৃত উপসর্গ, বাংলা উপসর্গ নয়। এটি সংস্কৃত থেকে আগত উপসর্গ যা 'সম্পূর্ণ' বা 'চরম' অর্থ প্রকাশ করে।
উৎস:
— বাংলা একাডেমি ব্যবহারিক বাংলা অভিধান (তৃতীয় সংস্করণ)
— বাংলা ব্যাকরণ ও রচনা (ড. হায়াৎ মামুদ)
— সাধারণ জ্ঞান ও বাংলা ব্যাকরণ (বিসিএস প্রস্তুতি গ্রন্থমালা)