ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (গ) পেরেশান
ফারসি শব্দ সম্পর্কিত সাধারণ জ্ঞানের ভূমিকা:
বাংলা ভাষায় প্রচুর বিদেশি শব্দ ব্যবহৃত হয়, যার মধ্যে ফারসি শব্দ অন্যতম। ফারসি শব্দগুলো প্রধানত ধর্মীয়, প্রশাসনিক, সামাজিক ও দৈনন্দিন জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্র থেকে বাংলা ভাষায় প্রবেশ করেছে। সরকারি চাকরির পরীক্ষাগুলোতে প্রায়ই ফারসি শব্দ চিহ্নিতকরণ বা প্রতিশব্দ সম্পর্কিত প্রশ্ন আসে।
**পেরেশান** সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:
— "পেরেশান" শব্দটির উৎপত্তি ফারসি ভাষা থেকে। এর অর্থ হলো "উদ্বিগ্ন", "চিন্তিত", "বিষণ্ণ" বা "বিপর্যস্ত"।
— বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত অন্যান্য ফারসি শব্দের মতো এটিরও উচ্চারণ ও অর্থ পরিবর্তিত হয়ে বাংলা অভিধানে স্থান পেয়েছে।
— উদাহরণ: "সে সব সময় পেরেশান থাকে।"
**মুসাফির** সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:
— "মুসাফির" শব্দটির উৎপত্তি আরবি ভাষা থেকে। এর অর্থ হলো "ভ্রমণকারী" বা "পথিক"।
— বাংলা ভাষায় এটি বহুল ব্যবহৃত একটি শব্দ, বিশেষ করে ধর্মীয় ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে।
— উদাহরণ: "মুসাফিরখানা" শব্দটি মুসলমানদের ব্যবহৃত অতিথিশালাকে বোঝায়।
**তকদির** সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:
— "তকদির" শব্দটির উৎপত্তি আরবি ভাষা থেকে। এর অর্থ হলো "ভাগ্য" বা "নির্দিষ্ট পরিণতি"।
— ইসলাম ধর্মে "তকদির" শব্দটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি আল্লাহর পূর্বনির্ধারিত পরিকল্পনাকে নির্দেশ করে।
— উদাহরণ: "মানুষের তকদির আল্লাহ নির্ধারণ করেন।"
**মজলুম** সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:
— "মজলুম" শব্দটির উৎপত্তি আরবি ভাষা থেকে। এর অর্থ হলো "নিপীড়িত", "অত্যাচারিত" বা "অবিচারিত"।
— বাংলা ভাষায় এটি সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ব্যবহৃত হয়।
— উদাহরণ: "মজলুম মানুষের অধিকার রক্ষা করা আমাদের দায়িত্ব।"
বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:
✗ ক) মুসাফির: এটি আরবি শব্দ, ফারসি নয়।
✗ খ) তকদির: এটি আরবি শব্দ, ফারসি নয়।
✗ ঘ) মজলুম: এটি আরবি শব্দ, ফারসি নয়।
উৎস:
— বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান (তৃতীয় সংস্করণ)
— ফারসি থেকে বাংলা অভিধান (ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ)
— ইসলামিক বিশ্বকোষ (বাংলা একাডেমি)