ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (গ) পর + পর = পরস্পর
সন্ধি সম্পর্কিত ভূমিকা:
বাংলা ভাষায় সন্ধি হলো দুটি শব্দ বা বর্ণের মিলনে নতুন শব্দ গঠনের প্রক্রিয়া। সন্ধির নিয়ম সাধারণত তিন প্রকার: স্বরসন্ধি, ব্যঞ্জনসন্ধি ও বিসর্গসন্ধি। তবে কিছু ক্ষেত্রে নিয়মের ব্যতিক্রম ঘটে, যাকে বলা হয় **নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি**। এই ধরনের সন্ধিতে নিয়মের সাধারণ ধারা অনুসরণ না করে বিশেষ কিছু ক্ষেত্রে স্বতন্ত্রভাবে সন্ধি ঘটে।
**পরস্পর সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— "পরস্পর" শব্দটি সংস্কৃত "পরঃ পরঃ" থেকে উদ্ভূত, যার অর্থ "একে অপরকে" বা "একজনের পর আরেকজন"।
— এটি একটি **নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি**। সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী, "পর + পর" সন্ধি করলে "পরোপর" হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু তা না হয়ে "পরস্পর" হয়েছে।
— বাংলা ভাষায় এমন কিছু ব্যতিক্রমধর্মী সন্ধি রয়েছে যেগুলো নিয়মের বাইরে গিয়ে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এদের মধ্যে "পরস্পর" অন্যতম উদাহরণ।
— অন্যান্য উদাহরণ: "অহর্নিশ", "দ্যুলোক", "সত্যনিষ্ঠ" ইত্যাদি।
বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:
✗ ক) বাক্ + দান = বাগদান:
— এটি একটি **ব্যঞ্জনসন্ধি**। "ক্" এবং "দ" মিলে "গ্" হয়। নিয়ম অনুযায়ী এটি সঠিক সন্ধি, তবে এটি নিপাতনে সিদ্ধ নয়।
✗ খ) উৎ + ছেদ = উচ্ছেদ:
— এটি একটি **ব্যঞ্জনসন্ধি**। "ৎ" এবং "ছ" মিলে "চ্ছ" হয়। নিয়ম অনুযায়ী এটি সঠিক সন্ধি, তবে এটি নিপাতনে সিদ্ধ নয়।
✗ ঘ) সম + সার = সংসার:
— এটি একটি **ব্যঞ্জনসন্ধি**। "ম" এবং "স" মিলে "ংস" হয়। নিয়ম অনুযায়ী এটি সঠিক সন্ধি, তবে এটি নিপাতনে সিদ্ধ নয়।
উৎস:
— বাংলা একাডেমি ব্যবহারিক বাংলা অভিধান (তৃতীয় সংস্করণ)
— বাংলা ব্যাকরণ ও রচনা (ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ)
— বিসিএস সাধারণ জ্ঞান প্রশ্নব্যাংক (গত ১০ বছরের প্রশ্ন বিশ্লেষণ)