ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (গ) ১০২
**ভূমিকা:**
বাংলাদেশের সংবিধান নাগরিকদের মৌলিক অধিকার সংরক্ষণের জন্য বিভিন্ন অনুচ্ছেদে বিধান প্রদান করেছে। কোনো নাগরিকের মৌলিক অধিকার লঙ্ঘিত হলে তিনি আদালতে মামলা করতে পারেন। এজন্য সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদের বিধান প্রযোজ্য তা জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
**সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০২ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— **অনুচ্ছেদ ১০২** বাংলাদেশের সংবিধানের তৃতীয় ভাগের অধীনে অবস্থিত, যেখানে **মৌলিক অধিকারসমূহের প্রতিকার** সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।
— এই অনুচ্ছেদ অনুসারে, **কোনো ব্যক্তির মৌলিক অধিকার লঙ্ঘিত হলে তিনি হাইকোর্ট বিভাগে রিট আবেদন করতে পারেন**।
— রিট আবেদনের মাধ্যমে আদালত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিতে পারে বা অধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে।
— এটি **রিট পিটিশন** নামে পরিচিত, যা সংবিধানের **অনুচ্ছেদ ৪৪(২)** দ্বারা সমর্থিত।
— অনুচ্ছেদ ১০২-এর অধীনে **হেবিয়াস কর্পাস, ম্যান্ডামাস, প্রহিবিশন, কো-ওয়ারেন্টো, সার্টিওরারি** প্রভৃতি রিট দাখিল করা যায়।
**অন্যান্য বিকল্প বিশ্লেষণ:**
✗ **ক) ৪৪**: অনুচ্ছেদ ৪৪ সংবিধানের অধিকার ও কর্তব্য অংশে অবস্থিত, যেখানে বলা হয়েছে যে **সকল নাগরিক আইনের দৃষ্টিতে সমান** এবং রাষ্ট্র তাদের অধিকার রক্ষায় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। এটি মৌলিক অধিকার লঙ্ঘনের প্রতিকার প্রদান করে না।
✗ **খ) ৪৭**: অনুচ্ছেদ ৪৭ সংবিধানের **বিরোধী বিধান** অংশে অবস্থিত, যেখানে বলা হয়েছে যে **কোনো আইন সংবিধানের বিরোধী হলে তা বাতিল বলে গণ্য হবে না**, যদি তা বিশেষভাবে উল্লেখ করা থাকে। এটি মৌলিক অধিকার লঙ্ঘনের প্রতিকার প্রদান করে না।
✗ **ঘ) ১০৩**: অনুচ্ছেদ ১০৩ বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্টের গঠন ও ক্ষমতা সম্পর্কিত। এটি আদালতের গঠন ও বিচার বিভাগীয় ক্ষমতা নির্ধারণ করে, মৌলিক অধিকার লঙ্ঘনের প্রতিকার প্রদান করে না।
**উৎস:**
— বাংলাদেশের সংবিধান, তৃতীয় ভাগ (মৌলিক অধিকারসমূহ), অনুচ্ছেদ ৪৪(২) ও ১০২।
— বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষার প্রশ্নব্যাংক (৪৪তম বিসিএস, ২০২২)।
— আইন ও বিচার বিভাগ কর্তৃক প্রকাশিত সংবিধান সম্পর্কিত নির্দেশিকা।