ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (ঘ) কানাকানি
ব্যতিহার বহুব্রীহি সমাস সম্পর্কে পরীক্ষা-প্রাসঙ্গিক ভূমিকা:
বাংলা ব্যাকরণে বহুব্রীহি সমাসের একটি বিশেষ প্রকার হলো ব্যতিহার বহুব্রীহি। এ ধরনের সমাসে পূর্বপদের অর্থই প্রধান থাকে, তবে একই জাতির দুই বা ততোধিক ব্যক্তি বা বস্তুর মধ্যে পারস্পরিক ক্রিয়া বা অবস্থা বোঝাতে ব্যবহৃত হয়। সরকারি চাকরির পরীক্ষায় (BCS, Bank, Primary, NTRCA) প্রায়ই বহুব্রীহি সমাস থেকে প্রশ্ন আসে, তাই ব্যতিহার বহুব্রীহির উদাহরণগুলো ভালোভাবে জানা জরুরি।
**ব্যতিহার বহুব্রীহি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— ব্যতিহার বহুব্রীহি সমাসে পূর্বপদের অর্থই প্রধান থাকে, তবে একাধিক ব্যক্তি বা বস্তুর মধ্যে পারস্পরিক ক্রিয়া বা অবস্থা বোঝায়।
— ব্যতিহার বহুব্রীহি সমাসে সাধারণত পূর্বপদ হিসেবে "আপনা-আপনি", "একে অপরের", "পরস্পর" ইত্যাদি শব্দ ব্যবহৃত হয়, তবে অনেক ক্ষেত্রে তা লুপ্ত থাকে।
— ব্যতিহার বহুব্রীহি সমাসের উদাহরণগুলো প্রায়শই দুই বা ততোধিক ব্যক্তির মধ্যে ঘটমান ক্রিয়া বা অবস্থাকে নির্দেশ করে।
— ব্যতিহার বহুব্রীহি সমাসের গঠন সাধারণত: পূর্বপদ + পরপদ (যেমন: কানাকানি = কানে কানে কথা বলা)।
**ব্যতিহার বহুব্রীহির উদাহরণ:**
— কানাকানি (কানে কানে কথা বলা)
— হাতাহাতি (হাতে হাতে যুদ্ধ)
— গলাগলি (গলায় গলা ধরা)
— চুলোচুলি (চুল ধরে মারামারি)
— ঠেলাঠেলি (একে অপরকে ঠেলা)
---
**বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:**
✗ ক) অজানা: এটি একটি নঞর্থক বহুব্রীহি সমাসের উদাহরণ। এখানে "না" উপসর্গযোগে "জানা" শব্দের বিপরীত অর্থ প্রকাশিত হয়েছে। ব্যতিহার বহুব্রীহি নয়।
✗ খ) দোতলা: এটি একটি সংখ্যাবাচক বহুব্রীহি সমাস। এখানে "দুই" সংখ্যাবাচক শব্দটি পূর্বপদ হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। ব্যতিহার বহুব্রীহি নয়।
✗ গ) আশীবিষ: এটি একটি উপমান বহুব্রীহি সমাস। এখানে "আশী" (দাঁত) এবং "বিষ" শব্দের মাধ্যমে সাপের বিষাক্ত দাঁতকে বোঝানো হয়েছে। ব্যতিহার বহুব্রীহি নয়।
---
উৎস:
- বাংলা একাডেমি ব্যবহারিক বাংলা অভিধান (২০১৬ সংস্করণ)
- মাধ্যমিক বাংলা ব্যাকরণ (৯ম-১০ম শ্রেণি), জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড, বাংলাদেশ
- বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষার প্রশ্নব্যাংক (২০১০-২০২৩), বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন