ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (খ) আগুনের পরশমণি
মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক সাহিত্য বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাস ও চেতনাকে ধারণ করে। উপন্যাস সাহিত্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে রচিত উপন্যাসগুলো দেশের ইতিহাস ও সংস্কৃতির অংশ হয়ে উঠেছে।
**হুমায়ুন আহমেদ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— হুমায়ুন আহমেদ একজন প্রখ্যাত বাংলাদেশি কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার ও চলচ্চিত্র নির্মাতা ছিলেন।
— তিনি ১৯৪৮ সালের ১৩ নভেম্বর নেত্রকোনায় জন্মগ্রহণ করেন এবং ২০১২ সালের ১৯ জুলাই মৃত্যুবরণ করেন।
— তাঁর উল্লেখযোগ্য উপন্যাসের মধ্যে রয়েছে "শঙ্খনীল কারাগার", "নন্দিত নরকে", "মধ্যাহ্ন", "জোছনা ও জননীর গল্প" প্রভৃতি।
— তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের উপর রচিত উপন্যাস "আগুনের পরশমণি" (১৯৮৬) এর জন্য বিশেষভাবে পরিচিত।
**আগুনের পরশমণি উপন্যাস সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— "আগুনের পরশমণি" উপন্যাসটি ১৯৮৬ সালে প্রকাশিত হয়।
— এটি বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের পটভূমিতে রচিত একটি অন্যতম শ্রেষ্ঠ উপন্যাস।
— উপন্যাসটির কেন্দ্রীয় চরিত্র হলেন একজন মুক্তিযোদ্ধা, যিনি যুদ্ধের সময় তার পরিবার ও দেশের জন্য লড়াই করেন।
— উপন্যাসটি যুদ্ধকালীন সময়ের মানবিক সংগ্রাম, ভালোবাসা ও ত্যাগের গল্প তুলে ধরে।
— এটি মুক্তিযুদ্ধের উপর রচিত উপন্যাস হিসেবে ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করে এবং পাঠকদের মধ্যে ব্যাপক প্রভাব ফেলে।
**বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:**
✗ ক) চিলেকোঠার সেপাই: এটি হুমায়ুন আহমেদ রচিত একটি উপন্যাস হলেও এটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক নয়। এটি মূলত বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপট নিয়ে রচিত।
✗ গ) একাত্তরের দিনগুলি: এটি জাহানারা ইমাম রচিত একটি স্মৃতিকথা, যা মুক্তিযুদ্ধের সময়ের ঘটনাবলি নিয়ে লেখা। এটি উপন্যাস নয়, বরং ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার বিবরণ।
✗ ঘ) পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়: এটি কবি জয় গোস্বামী রচিত একটি কাব্যগ্রন্থ, যা মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে লেখা হলেও এটি উপন্যাস নয়।
উৎস:
— হুমায়ুন আহমেদ, "আগুনের পরশমণি" (১৯৮৬)
— বাংলা একাডেমি চরিতাভিধান
— বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক সাহিত্য: একটি পর্যালোচনা (গবেষণা প্রবন্ধ)