ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (খ) ‘নেকড়ে অরণ্যে’
মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক সাহিত্য বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রেক্ষাপটে রচিত সাহিত্যকর্মের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই সাহিত্যকর্মগুলো মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, সংগ্রাম, ত্যাগ ও বিজয়ের গল্পকে তুলে ধরে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের উপর রচিত উপন্যাসগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হলো—
**‘নেকড়ে অরণ্যে’ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— ‘নেকড়ে অরণ্যে’ উপন্যাসটির রচয়িতা শওকত ওসমান। তিনি বাংলাদেশের একজন প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক ও মুক্তিযুদ্ধের একজন সক্রিয় অংশগ্রহণকারী ছিলেন।
— উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৯৬৭ সালে। এটি মুক্তিযুদ্ধের পূর্ববর্তী সময়কাল অর্থাৎ পাকিস্তানি শাসনামলের অত্যাচার ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের প্রতীক হিসেবে রচিত।
— উপন্যাসটির মূল বিষয়বস্তু হলো পূর্ব পাকিস্তানের সাধারণ মানুষের জীবনে পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর শোষণ ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও সংগ্রাম। এটি মুক্তিযুদ্ধের পূর্ববর্তী সময়ের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতির প্রতিফলন ঘটায়।
— শওকত ওসমানের এই উপন্যাসটি বাংলা সাহিত্যে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক সাহিত্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হিসেবে বিবেচিত হয়। এটি পরবর্তীকালে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে আরও শক্তিশালী করতে ভূমিকা পালন করে।
— উপন্যাসটির নাম ‘নেকড়ে অরণ্যে’ থেকেই বোঝা যায় যে, এটি একটি প্রতীকী নাম। এখানে ‘নেকড়ে’ বলতে অত্যাচারী শাসকগোষ্ঠীকে এবং ‘অরণ্যে’ বলতে পূর্ব পাকিস্তানের জনগণকে বোঝানো হয়েছে।
---
**বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:**
✗ ক) ‘কাঁদো নদী কাঁদো’: এটি বাংলাদেশের প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক আবু ইসহাক রচিত একটি উপন্যাস। এটি মূলত গ্রামীণ জীবনের সামাজিক ও অর্থনৈতিক সমস্যার উপর ভিত্তি করে রচিত। এটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস নয়।
✗ গ) ‘রাঙা প্রভাত’: এটি বাংলাদেশের আরেকজন প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক শহীদুল জহির রচিত একটি উপন্যাস। এটি মূলত বাংলাদেশের গ্রামীণ জীবনের সামাজিক ও পারিবারিক সম্পর্কের উপর ভিত্তি করে রচিত। এটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস নয়।
✗ ঘ) ‘প্রদোষে প্রাকৃতজন’: এটি বাংলাদেশের প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন রচিত একটি উপন্যাস। এটি মূলত প্রাচীন বাংলার ইতিহাস ও সমাজের উপর ভিত্তি করে রচিত। এটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস নয়।
---
উৎস:
— শওকত ওসমান, ‘নেকড়ে অরণ্যে’ (১৯৬৭)
— আবু ইসহাক, ‘কাঁদো নদী কাঁদো’
— শহীদুল জহির, ‘রাঙা প্রভাত’
— সেলিনা হোসেন, ‘প্রদোষে প্রাকৃতজন’