ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (খ) সমুদ্রের ঢেউ
নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস সম্পর্কিত পরীক্ষা-প্রাসঙ্গিক ভূমিকা:
বর্তমান বিশ্বে জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশ দূষণের কারণে জীবাশ্ম জ্বালানির বিকল্প হিসেবে নবায়নযোগ্য শক্তির উৎসগুলোর গুরুত্ব দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস হিসেবে সৌরশক্তি, বায়ুশক্তি, জলবিদ্যুৎ, ভূ-তাপীয় শক্তি এবং সমুদ্র শক্তি ব্যবহৃত হচ্ছে। সরকারি চাকরির পরীক্ষাগুলোতে নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস সম্পর্কিত প্রশ্ন প্রায়ই আসে, যার মধ্যে সমুদ্র শক্তি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
সমুদ্র শক্তি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:
— সমুদ্র শক্তি হলো এমন শক্তি যা সমুদ্রের বিভিন্ন উপাদান যেমন ঢেউ, জোয়ার-ভাটা, সমুদ্র স্রোত এবং তাপমাত্রার পার্থক্যের মাধ্যমে উৎপন্ন হয়।
— সমুদ্র শক্তিকে প্রধানত চারটি ভাগে ভাগ করা যায়: ১) ঢেউ শক্তি (Wave Energy), ২) জোয়ার-ভাটা শক্তি (Tidal Energy), ৩) সমুদ্র স্রোত শক্তি (Ocean Current Energy), ৪) মহাসাগর তাপ শক্তি (Ocean Thermal Energy Conversion - OTEC)।
— সমুদ্রের ঢেউ শক্তি হলো সমুদ্রের ঢেউয়ের গতিশক্তি ও সম্ভাব্য শক্তিকে বিদ্যুৎ উৎপাদনে রূপান্তর করা। এটি সাধারণত বিশেষ ধরনের যন্ত্রপাতি যেমন পয়েন্ট অ্যাবজর্বার, অ্যাটেনুয়েটর বা কলাম স্টিল ওয়েল দ্বারা সংগ্রহ করা হয়।
— বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে সমুদ্র শক্তির বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, পটুয়াখালী ও সাতক্ষীরা জেলায় সমুদ্র শক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে।
— বিশ্বের বিভিন্ন দেশ যেমন যুক্তরাজ্য, পর্তুগাল, অস্ট্রেলিয়া, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং দক্ষিণ কোরিয়া সমুদ্র শক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন করছে। উদাহরণস্বরূপ, যুক্তরাজ্যের স্কটল্যান্ডে ২০২০ সালে বিশ্বের বৃহত্তম ঢেউ শক্তি প্রকল্প চালু করা হয়েছে।
বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:
✗ ক) তেল: তেল একটি জীবাশ্ম জ্বালানি যা কয়েক মিলিয়ন বছর ধরে ভূগর্ভে তৈরি হয়েছে। এটি একটি অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎস কারণ এর পুনর্নবীকরণযোগ্য হার অত্যন্ত ধীর এবং মানবজাতির ব্যবহারের তুলনায় এর মজুদ সীমিত।
✗ গ) গ্যাস: প্রাকৃতিক গ্যাসও একটি জীবাশ্ম জ্বালানি এবং অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎস। এটি দ্রুত ব্যবহৃত হচ্ছে এবং এর মজুদও সীমিত।
✗ ঘ) কয়লা: কয়লা হলো আরেকটি জীবাশ্ম জ্বালানি যা কয়েক শত মিলিয়ন বছর ধরে তৈরি হয়েছে। এটি অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎস এবং এর দহনের ফলে প্রচুর পরিমাণে কার্বন ডাইঅক্সাইড নির্গমন হয়, যা পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর।
উৎস:
— "Renewable Energy Sources and Their Environmental Impact" by Bent Sørensen (Academic Press, 2017)
— "Ocean Energy Systems" by International Energy Agency (IEA) Reports
— বাংলাদেশ সরকারের পুনর্নবীক