ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (গ) ট্রেন স্টেশন ছেড়েছে
কারক ও বিভক্তি সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা:
বাংলা ব্যাকরণে কারক বলতে বাক্যের ক্রিয়াপদের সঙ্গে নামপদের সম্পর্ককে বোঝায়। বাংলা ব্যাকরণে সাধারণত ছয় প্রকার কারক স্বীকৃত: কর্তৃকারক, কর্মকারক, করণকারক, সম্প্রদান কারক, অপাদান কারক ও অধিকরণ কারক। অপাদান কারক হলো সেই কারক যার দ্বারা ক্রিয়ার উৎপত্তি বা প্রাপ্তি নির্দেশিত হয়। অর্থাৎ, যে কারণে বা উৎস থেকে কোনো কিছু নির্গত বা উৎপন্ন হয়, তাকে অপাদান কারক বলে।
অপাদান কারক সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:
— অপাদান কারক মূলত ক্রিয়ার উৎস বা উৎপত্তিস্থল নির্দেশ করে। যেমন: "আকাশ থেকে বৃষ্টি পড়ে" — এখানে "আকাশ" হলো অপাদান কারক, কারণ বৃষ্টি আকাশ থেকেই উৎপন্ন হচ্ছে।
— অপাদান কারকের বিভক্তি সাধারণত "-এ", "-তে", "-থেকে", "-চেয়ে" ইত্যাদি হয়। উদাহরণ: "গাছ থেকে পাতা ঝরে", "তিলে তৈল আছে"।
— অপাদান কারক কর্মকারকের বিপরীত। কর্মকারক যেখানে ক্রিয়ার কর্মকে নির্দেশ করে, সেখানে অপাদান কারক ক্রিয়ার উৎসকে নির্দেশ করে।
— অপাদান কারকের উদাহরণ: "আমি স্কুল থেকে আসছি", "তিনি কলেজ থেকে শিক্ষা লাভ করেছেন"।
— অপাদান কারককে কখনো কখনো "উৎস কারক" বলেও অভিহিত করা হয়।
বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:
✗ ক) গৃহহীনে গৃহ দাও: এখানে "গৃহহীনে" কর্মকারক। কারণ, ক্রিয়ার কর্ম হলো "গৃহ" এবং কর্মকারকের বিভক্তি "-এ" ব্যবহৃত হয়েছে।
✗ খ) জিজ্ঞাসিব জনে জনে: এখানে "জনে জনে" সম্প্রদান কারক। কারণ, ক্রিয়ার কর্মের প্রতি সম্প্রদান করা হচ্ছে।
✗ ঘ) বনে বাঘ আছে: এখানে "বনে" অধিকরণ কারক। কারণ, ক্রিয়ার স্থান নির্দেশ করছে।
উৎস:
— বাংলা একাডেমি প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও রচনাপদ্ধতি (২০১২ সংস্করণ)
— ড. হায়াত মামুদ রচিত "বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি"
— বিসিএস সাধারণ জ্ঞান প্রশ্নব্যাংক (২০২০-২০২৩)