ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (ক) ইমানুয়েল কান্ট
**‘কর্তব্যের জন্য কর্তব্য’ ধারণাটির প্রেক্ষাপট:**
দর্শনের ইতিহাসে নীতিশাস্ত্রের আলোচনায় ‘কর্তব্যের জন্য কর্তব্য’ (Duty for Duty’s Sake) ধারণাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি মূলত নৈতিক কর্মের একটি দার্শনিক তত্ত্ব, যেখানে কোনো ব্যক্তির কর্মের নৈতিক মূল্যায়ন নির্ভর করে কর্মটির উদ্দেশ্য বা ফলাফলের উপর নয়, বরং কর্মটি সম্পাদনের অভিপ্রায় বা নৈতিক বাধ্যবাধকতার উপর। এই ধারণাটি দার্শনিক ইমানুয়েল কান্টের নৈতিক দর্শনের কেন্দ্রীয় বিষয় হিসেবে বিবেচিত হয়।
---
**ইমানুয়েল কান্ট সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— ইমানুয়েল কান্ট (১৭২৪–১৮০৪) ছিলেন একজন জার্মান দার্শনিক এবং আধুনিক দর্শনের অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব। তিনি যুক্তিবাদ ও অভিজ্ঞতাবাদের সমন্বয় ঘটিয়ে জ্ঞানতত্ত্ব ও নীতিশাস্ত্রে বিপ্লব ঘটান।
— কান্টের নৈতিক দর্শনের মূল ভিত্তি হলো **"ক্যাটেগরিক্যাল ইম্পারেটিভ"** (Categorical Imperative), যার মাধ্যমে তিনি নৈতিক কর্মের সর্বজনীন বিধি নির্ধারণ করেন।
— তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ **"Critique of Pure Reason" (১৭৮১)** জ্ঞানতত্ত্বের উপর এবং **"Groundwork of the Metaphysics of Morals" (১৭৮৫)** নীতিশাস্ত্রের উপর প্রভাবশালী অবদান রাখে।
— কান্টের মতে, নৈতিক কর্মের উৎকর্ষ নির্ভর করে কর্মটির অভিপ্রায়ের উপর, কর্মের ফলাফলের উপর নয়। এটিই তাঁর **"কর্তব্যের জন্য কর্তব্য"** ধারণার মূল কথা।
— তাঁর দর্শনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ধারণা হলো **"মানুষকে কখনো মাধ্যম হিসেবে নয়, সর্বদা উদ্দেশ্য হিসেবে বিবেচনা করতে হবে"** (Act in such a way that you treat humanity, whether in your own person or in the person of any other, never merely as a means to an end, but always at the same time as an end)।
---
**বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:**
✗ খ) হার্বার্ট স্পেন্সার: তিনি ছিলেন একজন ইংরেজ সমাজবিজ্ঞানী এবং দার্শনিক, যিনি সামাজিক ডারউইনবাদ এবং উদারনৈতিক মতবাদ প্রচার করেন। তাঁর নৈতিক দর্শনে ‘কর্তব্যের জন্য কর্তব্য’ ধারণাটির উল্লেখ নেই।
✗ গ) বার্ট্রান্ড রাসেল: তিনি ছিলেন একজন ব্রিটিশ দার্শনিক, গণিতবিদ ও লেখক। তাঁর প্রধান অবদান ছিল যুক্তিবিদ্যা, গণিতের ভিত্তি এবং বিশ্লেষণী দর্শনে। নীতিশাস্ত্রে তাঁর অবদান মূলত সমাজ ও রাজনীতির ক্ষেত্রে। ‘কর্তব্যের জন্য কর্তব্য’ ধারণাটি তাঁর দর্শনের অংশ নয়।
✗ ঘ) অ্যারিস্টটল: তিনি ছিলেন প্রাচীন গ্রিসের দার্শনিক এবং পাশ্চাত্য দর্শনের জনক। তাঁর নৈতিক দর্শনে ‘কর্তব্যের জন্য কর্তব্য’ ধারণাটির পরিবর্তে **"সুখবাদ"** (Eudaimonism) এবং **"সদগুণের নৈতিকতা"** (Virtue Ethics) প্রাধান্য পেয়েছে। তাঁর মতে, নৈতিক কর্মের উদ্দেশ্য হলো ব্যক্তির সুখ ও পরিপূর্ণতা অর্জন।
---
**উৎস:**
1. Kant