ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (গ) মাটির অম্লতা হ্রাসের জন্য
কৃষি জমির মাটির গুণাগুণ ও উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন ধরনের পদার্থ প্রয়োগ করা হয়। এর মধ্যে চুন একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে ব্যবহৃত হয়। বিশেষ করে বাংলাদেশের মতো উষ্ণ ও আর্দ্র জলবায়ু অঞ্চলে মাটির অম্লতা বৃদ্ধি পাওয়ার প্রবণতা দেখা যায়, যা ফসল উৎপাদনের জন্য ক্ষতিকর। তাই মাটির অম্লতা নিয়ন্ত্রণে চুন প্রয়োগ করা হয়।
**চুন সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— চুন প্রধানত **ক্যালসিয়াম কার্বনেট (CaCO₃)** বা **ক্যালসিয়াম হাইড্রোক্সাইড (Ca(OH)₂)** আকারে ব্যবহৃত হয়।
— এটি মাটির **pH বৃদ্ধি** করে অর্থাৎ মাটির অম্লতা কমায়। সাধারণত মাটির pH ৫.৫-এর নিচে হলে ফসল উৎপাদনে সমস্যা দেখা দেয়, তাই চুন প্রয়োগ করে pH বৃদ্ধি করা হয়।
— চুন প্রয়োগের ফলে মাটির **ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেসিয়াম** উপাদানের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়, যা উদ্ভিদের পুষ্টি সরবরাহে সহায়তা করে।
— এটি মাটির **ব্যাকটেরিয়া ও অনুজীবের কার্যক্রম বৃদ্ধি** করে, ফলে মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি পায়।
— চুন প্রয়োগের ফলে মাটির **অ্যালুমিনিয়াম ও ম্যাঙ্গানিজের বিষাক্ত প্রভাব কমে**, যা উদ্ভিদের জন্য ক্ষতিকর।
— বাংলাদেশের অনেক অঞ্চলে, বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলে লালমাটি ও ল্যাটেরাইট মাটিতে অম্লতা বেশি থাকে, তাই সেখানে চুন প্রয়োগ করা হয়।
**বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:**
✗ ক) মাটির ক্ষয় রোধের জন্য: চুন মাটির ক্ষয় রোধে সরাসরি কোনো ভূমিকা পালন করে না। ক্ষয় রোধে সাধারণত বৃক্ষরোপণ, ধাপ কেটে চাষাবাদ ইত্যাদি পদ্ধতি ব্যবহৃত হয়।
✗ খ) মাটির অম্লতা বৃদ্ধির জন্য: চুন প্রয়োগ করলে মাটির অম্লতা বৃদ্ধি পায় না, বরং অম্লতা হ্রাস পায়। অম্লতা বৃদ্ধির জন্য সাধারণত সালফার বা জৈব সার প্রয়োগ করা হয়।
✗ ঘ) মাটির জৈব পদার্থ বৃদ্ধির জন্য: চুন মাটির জৈব পদার্থ বৃদ্ধিতে সরাসরি কোনো অবদান রাখে না। জৈব পদার্থ বৃদ্ধির জন্য সাধারণত গোবর, কম্পোস্ট ইত্যাদি জৈব সার প্রয়োগ করা হয়।
**উৎস:**
— বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক প্রকাশিত "মাটি বিজ্ঞান ও সার ব্যবস্থাপনা" বই।
— বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (BARI) কর্তৃক প্রকাশিত "মাটির উর্বরতা ব্যবস্থাপনা" গাইডলাইন।
— প্রাথমিক কৃষি শিক্ষা পাঠ্যপুস্তক (৬ষ্ঠ থেকে ১০ম শ্রেণি)।