ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (ক) কার্তিক – ফাল্গুন
বাংলাদেশের কৃষি মৌসুমকে প্রধানত তিনটি ভাগে ভাগ করা হয়: রবি মৌসুম, খরিফ মৌসুম (খরিফ-১ ও খরিফ-২)। রবি মৌসুম মূলত শীতকালীন ফসল উৎপাদনের সময়কাল হিসেবে পরিচিত।
**রবি মৌসুম সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— রবি মৌসুম বাংলা মাস অনুসারে কার্তিক থেকে ফাল্গুন পর্যন্ত বিস্তৃত। ইংরেজি মাস হিসেবে এটি সাধারণত অক্টোবর থেকে মার্চ পর্যন্ত স্থায়ী হয়।
— এই মৌসুমে উৎপাদিত প্রধান ফসলগুলোর মধ্যে রয়েছে গম, ভুট্টা, সরিষা, আলু, ডাল জাতীয় ফসল (যেমন ছোলা, মসুর), বার্লি, সূর্যমুখী ইত্যাদি।
— রবি মৌসুমের ফসলগুলো সাধারণত শীতকালীন আবহাওয়ায় ভালো জন্মে, কারণ এ সময় তাপমাত্রা কম থাকে এবং বৃষ্টিপাত তুলনামূলকভাবে কম হয়।
— বাংলাদেশের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, রবি মৌসুমের ফসল উৎপাদনের জন্য মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি ও সেচ ব্যবস্থার উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
— এই মৌসুমের ফসলগুলো সংরক্ষণের জন্য কৃষকরা সাধারণত শস্য সংরক্ষণাগার বা গুদামজাত পদ্ধতি ব্যবহার করে থাকেন।
**বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:**
✗ খ) চৈত্র – বৈশাখ: এটি খরিফ মৌসুমের অন্তর্ভুক্ত, যেখানে গ্রীষ্মকালীন ফসল যেমন ধান, পাট, আম ইত্যাদি উৎপাদিত হয়।
✗ গ) ভাদ্র – অশ্রহায়ণ: এটি খরিফ-১ মৌসুমের সময়কাল, যেখানে ধান, পাট ইত্যাদি প্রাথমিক পর্যায়ের ফসল উৎপাদিত হয়।
✗ ঘ) শ্রাবণ – আশ্বিন: এটি খরিফ-২ মৌসুমের সময়কাল, যেখানে ধান, ভুট্টা ইত্যাদি ফসল উৎপাদিত হয়।
উৎস:
— বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক প্রকাশিত "কৃষি মৌসুম ও ফসল উৎপাদন" বিষয়ক গাইডলাইন।
— বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর কৃষি পরিসংখ্যান রিপোর্ট (২০২২-২০২৩)।
— কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট ও প্রকাশিত সাময়িকী।