ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (ক) মন্ট্রিল প্রটোকল
**ভূমিকা:**
বিশ্বব্যাপী ওজোনস্তর ক্ষয়কারী পদার্থ নিয়ন্ত্রণে আন্তর্জাতিক চুক্তির মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ হলো মন্ট্রিল প্রটোকল। এটি ওজোনস্তরের ক্ষয় রোধে বৈশ্বিক পদক্ষেপ গ্রহণে নেতৃত্ব দিয়েছে।
**মন্ট্রিল প্রটোকল সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— মন্ট্রিল প্রটোকল হলো একটি আন্তর্জাতিক চুক্তি, যা ১৯৮৭ সালে মন্ট্রিলে স্বাক্ষরিত হয় এবং ১৯৮৯ সালে কার্যকর হয়।
— এটি ওজোনস্তর ক্ষয়কারী পদার্থ যেমন ক্লোরোফ্লোরোকার্বন (CFC), হ্যালন, কার্বন টেট্রাক্লোরাইড প্রভৃতি নিয়ন্ত্রণ ও ধাপে ধাপে বিলুপ্ত করার জন্য গৃহীত হয়েছে।
— ক্রমহ্রাসমান হারে ওজোনস্তর ক্ষয়কারী উপাদান বিলুপ্তির বিষয়টি এই চুক্তির মূল লক্ষ্য।
— মন্ট্রিল প্রটোকলকে ইতিহাসের সবচেয়ে সফল আন্তর্জাতিক পরিবেশ চুক্তিগুলোর মধ্যে একটি হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
— এই চুক্তির ফলে ওজোনস্তরের ক্ষয় অনেকাংশে কমেছে এবং ভবিষ্যতে ওজোনস্তরের পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
— মন্ট্রিল প্রটোকলের সাফল্যের কারণে এটি জাতিসংঘের পরিবেশ কর্মসূচি (UNEP) দ্বারা পরিচালিত হয়।
**বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:**
✗ খ) ক্লোরোফ্লোরো কার্বন চুক্তি: ক্লোরোফ্লোরো কার্বন (CFC) হলো ওজোনস্তর ক্ষয়কারী একটি পদার্থ, কিন্তু এটি কোনো চুক্তির নাম নয়। মন্ট্রিল প্রটোকলেই CFC নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
✗ গ) IPCC চুক্তি: IPCC (Intergovernmental Panel on Climate Change) হলো জলবায়ু পরিবর্তন সম্পর্কিত একটি আন্তর্জাতিক সংস্থা, যা মূলত বৈশ্বিক উষ্ণতা ও জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে কাজ করে। এটি ওজোনস্তর ক্ষয় নিয়ে কাজ করে না।
✗ ঘ) কোনোটিই নয়: মন্ট্রিল প্রটোকলই হলো ওজোনস্তর ক্ষয়কারী পদার্থ নিয়ন্ত্রণের জন্য প্রধান আন্তর্জাতিক চুক্তি।
**উৎস:**
— জাতিসংঘ পরিবেশ কর্মসূচি (UNEP) কর্তৃক প্রকাশিত মন্ট্রিল প্রটোকলের অফিসিয়াল ডকুমেন্ট।
— বাংলাদেশ সরকারের পরিবেশ অধিদপ্তর কর্তৃক প্রকাশিত পরিবেশ বিষয়ক নীতিমালা।
— বিভিন্ন সরকারি পরীক্ষার প্রশ্নব্যাংক ও বিগত বছরের প্রশ্নপত্র।