ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (গ) সুদখোর
"কুসীদজীবী" শব্দটি বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে ব্যবহৃত একটি প্রাচীন শব্দ, যার অর্থ সুদখোর বা মহাজন। এই শব্দটি প্রাচীন সমাজ ব্যবস্থায় প্রচলিত ছিল, যেখানে মহাজনরা উচ্চ সুদে ঋণ প্রদান করতেন এবং ঋণগ্রহীতাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করতেন।
**কুসীদজীবী সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— "কুসীদজীবী" শব্দটি সংস্কৃত "কুসীদ" (সুদ) এবং "জীবী" (জীবিকা নির্বাহকারী) শব্দ দুটির সমন্বয়ে গঠিত। অর্থাৎ, যারা সুদ নিয়ে জীবিকা নির্বাহ করে তাদেরকে কুসীদজীবী বলা হয়।
— প্রাচীন বাংলা সাহিত্যে, বিশেষ করে চর্যাপদ ও মঙ্গলকাব্যে এই শব্দটির উল্লেখ পাওয়া যায়। উদাহরণস্বরূপ, চর্যাপদে বলা হয়েছে:
*"কুসীদজীবী মহাজন, সুদে দেনা লয়।*
*আপনা ধন জন লয়, পরের ধন মারে।"*
— বাংলা সাহিত্যে মহাজনদের অত্যাচারের বিরুদ্ধেও কবি-সাহিত্যিকরা লেখনী ধারণ করেছেন। যেমন, ভারতচন্দ্র রায়গুণাকরের "অন্নদামঙ্গল" কাব্যে মহাজনদের অত্যাচারের চিত্র ফুটে উঠেছে।
— ইসলামি আইনে সুদ খাওয়া হারাম হিসেবে বিবেচিত। তাই ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকেও সুদখোরদের প্রতি নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে।
**বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:**
✗ ক) চারণকবি: চারণকবি বলতে যারা গ্রামে গ্রামে ঘুরে কবিতা আবৃত্তি করেন তাদের বোঝায়। এটি সম্পূর্ণ ভিন্ন অর্থ বহন করে।
✗ খ) সাপুড়ে: সাপুড়ে বলতে সাপ ধরার পেশাজীবীদের বোঝায়। এটি সুদখোরের সাথে কোনো সম্পর্ক নেই।
✗ ঘ) কৃষিজীবী: কৃষিজীবী বলতে যারা কৃষিকাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন তাদের বোঝায়। এটি সুদের সাথে সম্পর্কিত নয়।
উৎস:
— চর্যাপদ (সংস্কৃত ও বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন নিদর্শন)
— ভারতচন্দ্র রায়গুণাকরের "অন্নদামঙ্গল" কাব্য
— বাংলা একাডেমি ব্যবহারিক বাংলা অভিধান