ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (ঘ) ভারত ও পাকিস্তান
**‘লাইন অব কন্ট্রোল’ সম্পর্কিত ভূমিকা:**
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মধ্যে সীমান্ত বিরোধ নিরসনে কৃত্রিমভাবে নির্ধারিত রেখাগুলোকে আন্তর্জাতিকভাবে ‘লাইন অব কন্ট্রোল’ নামে অভিহিত করা হয়। ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে কাশ্মীর অঞ্চল নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের ফলে এই দুই দেশের মধ্যে একটি নিয়ন্ত্রণ রেখা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, যা আন্তর্জাতিকভাবে ‘লাইন অব কন্ট্রোল’ নামে পরিচিত।
---
**ভারত ও পাকিস্তানের ‘লাইন অব কন্ট্রোল’ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— **উৎপত্তি ও ইতিহাস:**
— ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে ১৯৪৭ সালের দেশভাগের পর থেকেই কাশ্মীর অঞ্চল নিয়ে বিরোধ শুরু হয়।
— ১৯৪৭-৪৮ সালের প্রথম কাশ্মীর যুদ্ধের পর জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হয়।
— ১৯৭২ সালের সিমলা চুক্তির মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে নিয়ন্ত্রণ রেখা প্রতিষ্ঠিত হয়, যা পরবর্তীতে ‘লাইন অব কন্ট্রোল’ নামে পরিচিতি লাভ করে।
— এই রেখা পূর্ববর্তী যুদ্ধবিরতি রেখার উপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত হলেও তা স্থায়ীভাবে সীমানা নির্ধারণ করেনি।
— **ভৌগোলিক অবস্থান:**
— ‘লাইন অব কন্ট্রোল’ কাশ্মীর অঞ্চলের মধ্য দিয়ে প্রায় ৭৪০ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত।
— এটি ভারতের জম্মু ও কাশ্মীর রাজ্য এবং পাকিস্তানের আজাদ কাশ্মীর ও গিলগিত-বালতিস্তান অঞ্চলের মধ্যে অবস্থিত।
— এই রেখা ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা হিসেবে কাজ করে, তবে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সীমানা নয়।
— **প্রশাসনিক প্রভাব:**
— ‘লাইন অব কন্ট্রোল’ ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে মানুষের চলাচল, বাণিজ্য এবং সামরিক কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করে।
— এই রেখা পার হওয়ার জন্য বিশেষ অনুমতি প্রয়োজন, এবং প্রায়শই দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
— জাতিসংঘের পর্যবেক্ষক দল এই রেখা পর্যবেক্ষণ করে থাকে।
— **আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি:**
— জাতিসংঘ এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ‘লাইন অব কন্ট্রোল’কে দুই দেশের মধ্যে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।
— তবে কাশ্মীর অঞ্চলের প্রকৃত সার্বভৌমত্ব নিয়ে দুই দেশের মধ্যে মতভেদ রয়ে গেছে।
---
**বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:**
✗ **ক) ইসরাইল ও জর্ডান:**
— ইসরাইল ও জর্ডানের মধ্যে সীমান্ত নির্ধারণকারী রেখাকে ‘গ্রীন লাইন’ নামে অভিহিত করা হয়, যা ১৯৪৯ সালের যুদ্ধবিরতি চুক্তির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। এটি ‘লাইন অব কন্ট্রোল’ নয়।
✗ **খ) দক্ষিণ কোরিয়া ও উত্তর কোরিয়া:**
— দক্ষিণ কোরিয়া ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যে সীমান্ত নির্ধারণকারী রেখাকে ‘ডিমিলিটারাইজড জোন (DMZ)’ নামে পরিচিত। এটি দুই দেশের মধ্যে একটি নিরস্ত্রীকৃত অঞ্চল, যা ‘লাইন অব কন্ট্রোল’ নয়।
✗ **গ) চীন ও তাইওয়ান:**
— চীন ও তাইওয়ানের মধ্যে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখাকে ‘মিডল লাইন অব দ্য তাইওয়ান স্ট্রেইট’ নামে অভিহিত করা