সঠিক উত্তর: (ক) শায়েস্তা খান
লালবাগের কেল্লা নির্মাণের ইতিহাস সম্পর্কে জানতে হলে মুঘল আমলের বাংলার ইতিহাস সম্পর্কে ধারণা থাকা জরুরি। মুঘল সম্রাটদের অধীনে বাংলা ছিল একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রদেশ। লালবাগের কেল্লা নির্মাণের পেছনে মুঘলদের সামরিক ও প্রশাসনিক কৌশল কাজ করেছিল।
**লালবাগের কেল্লা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— লালবাগের কেল্লা বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় অবস্থিত একটি ঐতিহাসিক দুর্গ। এটি মুঘল আমলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা।
— দুর্গটির নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছিল ১৬৭৮ খ্রিস্টাব্দে মুঘল সুবাদার মুহাম্মদ আজম শাহের সময়ে। তিনি ছিলেন সম্রাট আওরঙ্গজেবের পুত্র।
— নির্মাণ কাজ শেষ না হতেই মুহাম্মদ আজম শাহ দিল্লিতে চলে যান এবং তার স্থলাভিষিক্ত হন শায়েস্তা খান। তিনি ছিলেন সম্রাট আওরঙ্গজেবের একজন বিশিষ্ট সেনাপতি ও প্রশাসক।
— শায়েস্তা খান দুর্গটির নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করেন এবং এর নাম দেন "আওরঙ্গবাদ দুর্গ"। পরবর্তীতে এটি লালবাগের কেল্লা নামে পরিচিতি লাভ করে।
— দুর্গটির ভেতরে রয়েছে একটি তিনতলা প্রাসাদ, একটি মসজিদ, এবং একটি হাম্মামখানা (গোসলখানা)।
— লালবাগের কেল্লা নির্মাণের উদ্দেশ্য ছিল মুঘলদের রাজনৈতিক ও সামরিক শক্তি প্রদর্শন করা এবং বাংলার রাজধানী ঢাকাকে আরও সুসংহত করা।
— দুর্গটির স্থাপত্য শৈলী মুঘল ও বাংলার স্থাপত্যের মিশ্রণে গঠিত। এর দেয়ালগুলো লাল ইট দিয়ে নির্মিত হওয়ায় একে লালবাগের কেল্লা বলা হয়।
**বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:**
✗ খ) শাহ সুজা: শাহ সুজা ছিলেন মুঘল সম্রাট শাহজাহানের দ্বিতীয় পুত্র এবং বাংলার সুবাদার। তিনি লালবাগের কেল্লা নির্মাণের সাথে সরাসরি জড়িত ছিলেন না। তার সময়কাল ছিল ১৬৩৯-১৬৬০ খ্রিস্টাব্দ।
✗ গ) টিপু সুলতান: টিপু সুলতান ছিলেন মহীশূরের শাসক এবং ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের নেতা। তিনি বাংলার সাথে কোনো সম্পর্ক রাখেননি এবং লালবাগের কেল্লা নির্মাণের সাথে তার কোনো সংযোগ নেই।
✗ ঘ) ইসলাম খান: ইসলাম খান ছিলেন মুঘল সম্রাট জাহাঙ্গীরের সময়কার বাংলার প্রথম সুবাদার। তিনি ঢাকাকে বাংলার রাজধানী হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেন। তবে লালবাগের কেল্লা নির্মাণের সাথে তার কোনো সম্পর্ক নেই। তার সময়কাল ছিল ১৬০৮-১৬১৩ খ্রিস্টাব্দ।
উৎস:
— বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর কর্তৃক প্রকাশিত "ঢাকার ঐতিহাসিক স্থাপনা" বই।
— "ঢাকা: স্মৃতি বিস্মৃতির নগরী" — মুনতাসীর মামুন।
— মুঘল আমলের বাংলার ইতিহাস — আব্দুল করিম।