ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (খ) সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
'লালসালু' উপন্যাসটি বাংলা সাহিত্যের একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপন্যাস। এটি বাংলাদেশের গ্রামীণ সমাজের ধর্মীয় কুসংস্কার, অন্ধবিশ্বাস ও সামাজিক বৈষম্যের বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী প্রতিবাদ হিসেবে বিবেচিত হয়।
**সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— তিনি ছিলেন একজন বিশিষ্ট বাংলাদেশি সাহিত্যিক ও কূটনীতিবিদ।
— জন্ম: ১৫ আগস্ট ১৯২২ সালে চট্টগ্রাম জেলায়।
— মৃত্যু: ১০ অক্টোবর ১৯৭১ সালে লন্ডনে।
— তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় বিদেশে অবস্থান করছিলেন এবং যুদ্ধের বিরুদ্ধে জনমত গঠনে ভূমিকা রাখেন।
— তাঁর উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্মের মধ্যে রয়েছে উপন্যাস, ছোটগল্প ও প্রবন্ধ।
— তাঁর লেখা অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ উপন্যাস হলো 'চাঁদের অমাবস্যা', 'কাঁদো নদী কাঁদো'।
— তিনি বাংলাদেশ সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পালন করেন।
— তাঁর সাহিত্যকর্মে মানবিক সংকট, ধর্মীয় গোঁড়ামি ও সামাজিক বৈষম্যের বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে।
— তিনি বাংলা সাহিত্যে আধুনিকতার ধারাকে আরও সমৃদ্ধ করেছেন।
**বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:**
✗ ক) মুনির চৌধুরী: তিনি ছিলেন একজন বিশিষ্ট ভাষাবিদ, সাহিত্যিক ও শিক্ষাবিদ। তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনা হলো 'মীর মশাররফ হোসেন' (গবেষণা গ্রন্থ)। তিনি 'লালসালু' উপন্যাসের লেখক নন।
✗ গ) শরৎচন্দ্র চট্টপাধ্যায়: তিনি ছিলেন একজন বিখ্যাত বাঙালি সাহিত্যিক। তাঁর উল্লেখযোগ্য উপন্যাস হলো 'দেবদাস', 'শ্রীকান্ত', 'গৃহদাহ'। তিনি বাংলাদেশের সাহিত্যিক ছিলেন না এবং 'লালসালু' তাঁর লেখা নয়।
✗ ঘ) শওকত আলী: তিনি ছিলেন একজন প্রখ্যাত বাংলাদেশি সাহিত্যিক। তাঁর উল্লেখযোগ্য উপন্যাস হলো 'প্রদোষে প্রাকৃতজন', 'দক্ষিণায়নের দিন'। তিনি 'লালসালু' উপন্যাসের লেখক নন।
উৎস:
— ওয়ালীউল্লাহ, সৈয়দ। *লালসালু*। বাংলা একাডেমি, ১৯৭৩।
— আনিসুজ্জামান। *আধুনিক বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস*। সাহিত্য প্রকাশ, ২০০৪।
— সরকার, সিরাজুল ইসলাম। *বাংলাদেশের ইতিহাস*। এশিয়াটিক সোসাইটি, ২০০৯।