ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (ক) আরবি ভাষা থেকে
**‘লাপাত্তা’ শব্দটির উৎপত্তি ও উপসর্গ বিশ্লেষণ:**
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত অনেক শব্দই বিভিন্ন বিদেশি ভাষা থেকে আগত উপসর্গ বা প্রত্যয় দ্বারা গঠিত। ‘লাপাত্তা’ শব্দটি একটি বিশেষ ধরনের গঠন যার মাধ্যমে কোনো ব্যক্তি বা বস্তুর অস্তিত্বহীনতা বা অনুপস্থিতি বোঝানো হয়। এই শব্দটির গঠনে ব্যবহৃত ‘লা’ উপসর্গটি আরবি ভাষা থেকে বাংলায় এসেছে।
**‘লাপাত্তা’ শব্দ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— ‘লাপাত্তা’ একটি যৌগিক শব্দ যেখানে ‘লা’ উপসর্গটি আরবি ‘লা’ (لا) থেকে এসেছে, যার অর্থ ‘না’ বা ‘অনুপস্থিত’।
— ‘পাত্তা’ অংশটি আরবি ‘ওয়াজিহ’ (واضح) শব্দ থেকে উদ্ভূত, যার অর্থ ‘স্পষ্ট’ বা ‘দৃশ্যমান’। তবে বাংলায় এটি ‘অস্তিত্ব’ বা ‘অনুপস্থিতির বিপরীত অর্থে ব্যবহৃত হয়।
— আরবি ‘লা’ উপসর্গটি বাংলায় নেতিবাচক অর্থ প্রকাশে ব্যবহৃত হয়, যেমন: লাজওয়াব (লা + জওয়াব), লাগাম (লা + গাম) ইত্যাদি।
— ‘লাপাত্তা’ শব্দটির অর্থ হলো ‘অদৃশ্য’, ‘অনুপস্থিত’, ‘খুঁজে পাওয়া যায় না এমন’।
— বাংলা একাডেমি অভিধান অনুসারে, ‘লাপাত্তা’ শব্দটি আরবি ‘লা’ উপসর্গ ও ‘পাত্তা’ (উর্দু/হিন্দি থেকে আগত) মিলে গঠিত।
**বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:**
✗ খ) ফরাসি ভাষা থেকে: ফরাসি ভাষা থেকে বাংলায় কিছু শব্দ এসেছে, যেমন: রেস্তোরাঁ, ব্যাগুয়েট ইত্যাদি। তবে ‘লাপাত্তা’ শব্দটির সাথে ফরাসি ভাষার কোনো সম্পর্ক নেই।
✗ গ) হিন্দি ভাষা থেকে: হিন্দি ভাষা থেকে বাংলায় অনেক শব্দ এসেছে, যেমন: চা, ঠগ ইত্যাদি। তবে ‘লাপাত্তা’ শব্দটির গঠনে হিন্দি ভাষার কোনো প্রভাব নেই।
✗ ঘ) উর্দু ভাষা থেকে: উর্দু ভাষা থেকে বাংলায় কিছু শব্দ এসেছে, যেমন: আদালত, দরবার ইত্যাদি। তবে ‘লাপাত্তা’ শব্দটির ‘পাত্তা’ অংশটি আরবি থেকে এসেছে, পুরো শব্দটি আরবি উপসর্গ দ্বারা গঠিত।
**উৎস:**
— বাংলা একাডেমি অভিধান (প্রথম খণ্ড)
— বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (ড. হায়াত মামুদ)
— আরবি-বাংলা অভিধান (ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ)