সঠিক উত্তর: (খ) ফ্রান্স
লেবাননের স্বাধীনতা ইতিহাস সম্পর্কিত প্রাসঙ্গিক ভূমিকা:
লেবানন একটি প্রাচীন দেশ হলেও আধুনিক লেবাননের স্বাধীনতা অর্জনের পেছনে রয়েছে দীর্ঘ ঔপনিবেশিক শাসন ও স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাস। বিশেষ করে ফ্রান্সের ভূমিকা এখানে উল্লেখযোগ্য।
লেবানন সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:
— লেবানন প্রাচীনকাল থেকেই ফিনিশিয়ান সভ্যতার কেন্দ্র ছিল। পরবর্তীতে রোমান, আরব, মামলুক ও উসমানীয় সাম্রাজ্যের অধীনে ছিল।
— উসমানীয় সাম্রাজ্যের পতনের পর প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় লেবানন ব্রিটেন ও ফ্রান্সের মধ্যে বিভক্ত হয়। ফ্রান্স পায় লেবানন ও সিরিয়া অঞ্চল।
— ১৯২০ সালে ফ্রান্স লেবাননের উপর ম্যান্ডেট প্রতিষ্ঠা করে এবং লেবাননকে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলার প্রক্রিয়া শুরু হয়।
— ১৯৪৩ সালের ২২ নভেম্বর ফ্রান্সের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক স্বাধীনতা লাভ করে লেবানন। এই দিনটি লেবাননে জাতীয় দিবস হিসেবে পালিত হয়।
— স্বাধীনতার পর লেবানন একটি প্রজাতন্ত্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং ১৯৪৬ সালে ফ্রান্স আনুষ্ঠানিকভাবে লেবানন থেকে তার সকল সেনা প্রত্যাহার করে নেয়।
বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:
✗ ক) ব্রিটেন: ব্রিটেন লেবাননের উপর সরাসরি ম্যান্ডেট প্রতিষ্ঠা করেনি। ব্রিটেন প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় উসমানীয় সাম্রাজ্যের কাছ থেকে লেবাননের কিছু অংশ দখল করলেও পরে ফ্রান্সকে লেবাননের প্রশাসনিক দায়িত্ব দেয়।
✗ গ) তুরস্ক: তুরস্ক উসমানীয় সাম্রাজ্যের উত্তরাধিকারী রাষ্ট্র হলেও লেবাননের স্বাধীনতার সাথে সরাসরি জড়িত নয়। তুরস্ক উসমানীয় সাম্রাজ্যের পতনের পর লেবাননের উপর কোনো ম্যান্ডেট বা নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেনি।
✗ ঘ) স্পেন: স্পেন কখনোই লেবাননের উপর কোনো ঔপনিবেশিক শাসন প্রতিষ্ঠা করেনি। স্পেনের সাথে লেবাননের ঐতিহাসিক বা রাজনৈতিক সম্পর্কও নেই।
উৎস:
— "History of Lebanon" – Britannica (https://www.britannica.com/place/Lebanon)
— "The French Mandate for Syria and Lebanon" – U.S. Library of Congress (https://www.loc.gov/collections/conflict-in-asia-and-the-pacific/articles-and-essays/the-french-mandate-for-syria-and-lebanon/)
— "Lebanon: A History of Conflict and Consensus" – Fawwaz Traboulsi