ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (ঘ) কবিরাজ
বাংলা ব্যাকরণে লিঙ্গান্তর হলো এমন একটি প্রক্রিয়া যেখানে পুরুষবাচক শব্দকে স্ত্রীবাচক শব্দে রূপান্তরিত করা হয়। তবে কিছু শব্দ রয়েছে যাদের লিঙ্গান্তর হয় না। এ ধরনের শব্দকে বলা হয় **উভয়লিঙ্গ শব্দ** বা **লিঙ্গান্তরহীন শব্দ**।
**কবিরাজ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— কবিরাজ শব্দটি সংস্কৃত "কবি" (জ্ঞানী ব্যক্তি) এবং "রাজ" (শাসক) শব্দদ্বয় থেকে এসেছে। অর্থাৎ, কবিরাজ হলেন একজন জ্ঞানী ও অভিজ্ঞ ব্যক্তি যিনি আয়ুর্বেদ চিকিৎসা করেন।
— বাংলা ভাষায় কবিরাজ শব্দটি উভয় লিঙ্গের ক্ষেত্রেই ব্যবহৃত হয়। অর্থাৎ, একজন পুরুষ কবিরাজ যেমন হতে পারেন, তেমনি একজন নারী কবিরাজও হতে পারেন। এ কারণে এই শব্দটির লিঙ্গান্তর হয় না।
— কবিরাজ শব্দটি বাংলা একাডেমি অভিধানেও উভয়লিঙ্গ হিসেবে স্বীকৃত।
— উদাহরণ: "রামকৃষ্ণ কবিরাজ একজন বিখ্যাত আয়ুর্বেদ চিকিৎসক।" এখানে "রামকৃষ্ণ" পুরুষ হলেও "কবিরাজ" শব্দটি স্ত্রীবাচক রূপ ধারণ করেনি।
---
**বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:**
✗ ক) সাহেব: সাহেব শব্দটি মূলত ইংরেজি "sahib" থেকে এসেছে এবং এটি পুরুষবাচক শব্দ। এর স্ত্রীবাচক রূপ হলো "সাহেবা"। উদাহরণ: "সাহেব এলেন" (পুরুষ), "সাহেবা এলেন" (স্ত্রী)।
✗ খ) বেয়াই: বেয়াই শব্দটি পুরুষবাচক। এর স্ত্রীবাচক রূপ হলো "বেয়াইন"। উদাহরণ: "বেয়াই সাহেব এলেন" (পুরুষ), "বেয়াইন সাহেবা এলেন" (স্ত্রী)।
✗ গ) সঙ্গী: সঙ্গী শব্দটি উভয়লিঙ্গ নয়। এটি সাধারণত পুরুষবাচক শব্দ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এর স্ত্রীবাচক রূপ হলো "সঙ্গিনী"। উদাহরণ: "তিনি আমার সঙ্গী" (পুরুষ), "তিনি আমার সঙ্গিনী" (স্ত্রী)।
---
উৎস:
- বাংলা একাডেমি অভিধান (তৃতীয় সংস্করণ)
- বাংলা ব্যাকরণ ও রচনা (ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ)
- মাধ্যমিক বাংলা ব্যাকরণ (বোর্ড প্রণীত)