সঠিক উত্তর: (খ) দস্তা
**ভূমিকা:**
লোহা একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাতু যা বিভিন্ন কাজে ব্যবহৃত হয়। তবে লোহাকে ক্ষয়রোধী করার জন্য গ্যালভানাইজিং নামক প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়। এই প্রক্রিয়ায় লোহার উপর একটি বিশেষ ধাতুর প্রলেপ দেওয়া হয় যাতে তা মরিচা না ধরে।
**গ্যালভানাইজিং সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— গ্যালভানাইজিং হলো লোহা বা ইস্পাতকে ক্ষয়রোধী করার একটি প্রক্রিয়া যেখানে ধাতুর উপর অন্য একটি ধাতুর প্রলেপ দেওয়া হয়।
— এই প্রক্রিয়ায় ব্যবহৃত প্রধান ধাতু হলো **দস্তা (জিংক)**।
— দস্তার প্রলেপ দেওয়ার ফলে লোহার উপর একটি প্রতিরক্ষামূলক স্তর তৈরি হয় যা বাতাস ও আর্দ্রতার সংস্পর্শে এসে মরিচা প্রতিরোধ করে।
— গ্যালভানাইজিং সাধারণত ইস্পাতের তৈরি বিভিন্ন নির্মাণ সামগ্রী যেমন- রেলিং, টিনের ছাদ, পানির ট্যাংক ইত্যাদিতে ব্যবহৃত হয়।
— দস্তার গলনাঙ্ক তুলনামূলকভাবে কম হওয়ায় এটি সহজেই গলিয়ে লোহার উপর প্রলেপ দেওয়া যায়।
**দস্তা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— দস্তা একটি রূপালী-ধূসর বর্ণের ধাতু যা প্রকৃতিতে প্রধানত জিঙ্কব্লেন্ড (ZnS) খনিজ হিসেবে পাওয়া যায়।
— এটি একটি সক্রিয় ধাতু হওয়ায় সহজেই অক্সিজেনের সাথে বিক্রিয়া করে দস্তা অক্সাইড (ZnO) গঠন করে।
— দস্তা বিদ্যুৎ পরিবাহী এবং এটি অন্যান্য ধাতুর সাথে সহজেই সংকর ধাতু গঠন করতে পারে।
— মানবদেহের জন্য দস্তা একটি অপরিহার্য খনিজ উপাদান যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে সাহায্য করে।
**বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:**
✗ **ক) তামা**: তামা একটি ভাল বিদ্যুৎ পরিবাহী ধাতু হলেও এটি গ্যালভানাইজিং প্রক্রিয়ায় ব্যবহৃত হয় না। তামার প্রলেপ দিলে তা লোহাকে ক্ষয়রোধী করতে পারে না।
✗ **গ) রূপা**: রূপা একটি মূল্যবান ধাতু এবং এটি বিদ্যুৎ ও তাপের সুপরিবাহী। তবে গ্যালভানাইজিংয়ে রূপার ব্যবহার নেই। এটি ব্যয়বহুল হওয়ায় সাধারণত ব্যবহৃত হয় না।
✗ **ঘ) এলুমিনিয়াম**: এলুমিনিয়ামও একটি হালকা ও ক্ষয়রোধী ধাতু হলেও গ্যালভানাইজিংয়ে এটি ব্যবহৃত হয় না। এলুমিনিয়ামের প্রলেপ দেওয়ার প্রক্রিয়াকে বলা হয় অ্যালুমিনাইজিং।
**উৎস:**
— *রসায়ন বিষয়ক পাঠ্যপুস্তক (এসএসসি ও এইচএসসি স্তর)*
— *ধাতুবিদ্যা বিষয়ক বিভিন্ন গবেষণা প্রবন্ধ*
— *বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের পাঠ্যপুস্তক*