ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (ক) কাব্য
'মা যে জননী কান্দে' বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান কবি জসীমউদ্দীনের একটি বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ।
**জসীমউদ্দীন সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— জসীমউদ্দীন (১৯০৩–১৯৭৬) বাংলাদেশের একজন প্রখ্যাত কবি, লেখক ও লোকসাহিত্যবিদ। তিনি বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রধান কবি হিসেবে পরিচিত।
— তাঁর প্রকৃত নাম মুহাম্মদ জসীমউদ্দীন। তিনি ফরিদপুর জেলার গোবিন্দপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
— তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএ এবং এমএ ডিগ্রি অর্জন করেন। পরবর্তীতে তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রভাষক হিসেবে যোগদান করেন।
— তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থগুলোর মধ্যে রয়েছে 'রাখালী', 'নক্সী কাঁথার মাঠ', 'সোজন বাদিয়ার ঘাট', 'মা যে জননী কান্দে', 'ধানখেত', 'বালুচর' ইত্যাদি।
— 'মা যে জননী কান্দে' কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯৬৩ সালে। এই গ্রন্থে মাতৃভক্তি, দেশপ্রেম, গ্রামীণ জীবন ও প্রকৃতির বর্ণনা স্থান পেয়েছে।
— তাঁর কাব্যে লোকজ উপাদান, গ্রামীণ জীবনের চিত্র, প্রকৃতির বর্ণনা এবং মানবিক অনুভূতির প্রকাশ বিশেষভাবে লক্ষণীয়।
— তিনি বাংলা সাহিত্যে 'পল্লীকবি' হিসেবে পরিচিত। তাঁর লেখায় গ্রামীণ জীবনের সহজ সরলতা ও প্রকৃতির সৌন্দর্য ফুটে উঠেছে।
— তিনি বাংলাদেশের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমসাময়িক ছিলেন এবং তাঁর সাহিত্যকর্ম বাংলা সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করেছে।
**বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:**
✗ খ) নাটক: 'মা যে জননী কান্দে' কোনো নাটক নয়। এটি একটি কাব্যগ্রন্থ। জসীমউদ্দীনের উল্লেখযোগ্য নাটক হলো 'বেদের মেয়ে'।
✗ গ) উপন্যাস: এটি কোনো উপন্যাস নয়। উপন্যাস সাধারণত গদ্যে লেখা হয় এবং দীর্ঘ কাহিনী বর্ণনা করে। 'মা যে জননী কান্দে' কাব্যগ্রন্থ হিসেবে পরিচিত।
✗ ঘ) প্রবন্ধ: এটি কোনো প্রবন্ধ নয়। প্রবন্ধ সাধারণত তথ্যমূলক বা বিশ্লেষণাত্মক লেখা হয়। 'মা যে জননী কান্দে' কবিতার সংকলন।
উৎস:
— জসীমউদ্দীন, 'মা যে জননী কান্দে' (১৯৬৩)।
— বাংলা একাডেমী প্রকাশিত 'জসীমউদ্দীন রচনাবলী'।
— বিভিন্ন সরকারি চাকরির পরীক্ষার প্রশ্নব্যাংক ও সাধারণ জ্ঞান বিষয়ক বই।