ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (খ) মধ্য আমেরিকা
মায়া সভ্যতা সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা:
মায়া সভ্যতা ছিল প্রাচীন আমেরিকার অন্যতম উন্নত ও প্রভাবশালী সভ্যতা। এটি খ্রিস্টপূর্ব প্রায় ২০০০ অব্দ থেকে শুরু হয়ে স্প্যানিশদের আগমনের পূর্ব পর্যন্ত (১৬শ শতাব্দী) মধ্য আমেরিকার বিস্তৃত অঞ্চলে বিকাশ লাভ করেছিল। মায়া সভ্যতা তাদের স্থাপত্য, জ্যোতির্বিজ্ঞান, গণিত, লেখনী পদ্ধতি এবং কৃষি প্রযুক্তির জন্য বিখ্যাত ছিল।
**মায়া সভ্যতা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— **অবস্থান ও বিস্তৃতি**: মায়া সভ্যতা মূলত মধ্য আমেরিকার অঞ্চলে অবস্থিত ছিল, যার মধ্যে বর্তমান মেক্সিকোর দক্ষিণাংশ (যেমন: ইউকাতান উপদ্বীপ, চিয়াপাস), গুয়াতেমালা, বেলিজ, হন্ডুরাস ও এল সালভাদরের অংশ অন্তর্ভুক্ত ছিল। এই অঞ্চলটি ক্রান্তীয় জলবায়ু দ্বারা প্রভাবিত ছিল।
— **সময়কাল**: মায়া সভ্যতা তিনটি প্রধান যুগে বিভক্ত ছিল:
১. **প্রাক-ক্লাসিক যুগ** (২০০০ খ্রিস্টপূর্ব – ২৫০ খ্রিস্টাব্দ): প্রাথমিক স্থাপনা ও কৃষির বিকাশ।
২. **ক্লাসিক যুগ** (২৫০ – ৯০০ খ্রিস্টাব্দ): সভ্যতার স্বর্ণযুগ, যেখানে মায়া শহর-রাজ্যগুলো (যেমন: টikal, Calakmul, Palenque) সর্বোচ্চ উন্নতি লাভ করে।
৩. **উত্তর-ক্লাসিক ও পোস্ট-ক্লাসিক যুগ** (৯০০ – ১৫০০ খ্রিস্টাব্দ): সাম্রাজ্যের পতন শুরু হয়, তবে কিছু অঞ্চলে মায়া সংস্কৃতি টিকে থাকে।
— **অর্জন ও অবদান**:
— **স্থাপত্য**: মায়ারা পিরামিড, মন্দির, প্রাসাদ ও বল খেলার মাঠ নির্মাণ করত। উদাহরণ: চিচেন ইৎজা (মেক্সিকো), টikal (গুয়াতেমালা)।
— **জ্যোতির্বিজ্ঞান**: তারা সূর্য, চাঁদ, গ্রহ ও তারা পর্যবেক্ষণ করে সঠিক ক্যালেন্ডার তৈরি করেছিল। তাদের গণনা অনুসারে ২০১২ সালের ডিসেম্বরে "বিশ্বের শেষ দিন" নিয়ে প্রচলিত ভুল ধারণা ছিল।
— **লিখন পদ্ধতি**: মায়ারা ছিল আমেরিকার একমাত্র প্রাচীন সভ্যতা যারা একটি সম্পূর্ণ লেখনী পদ্ধতি (হায়ারোগ্লিফিক্স) ব্যবহার করত। তাদের লেখাগুলো বেশিরভাগই স্প্যানিশদের দ্বারা ধ্বংস করা হয়েছিল।
— **গণিত**: তারা শূন্য ধারণা সহ একটি ভিত্তি-২০ সংখ্যা পদ্ধতি ব্যবহার করত, যা ইউরোপীয়দের তুলনায় অনেক আগে উদ্ভাবিত হয়েছিল।
— **ধর্ম ও সংস্কৃতি**: মায়ারা বহু দেবতার পূজা করত, যেমন সূর্য দেবতা (কিনিচ আহাউ), বৃষ্টির দেবতা (চাক)। তারা মানব বলি ও ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালন করত।
— **পতনের কারণ**: মায়া সভ্যতার পতনের জন্য একাধিক কারণকে দায়ী করা হয়, যেমন:
— অতিরিক্ত জনসংখ্যা ও কৃষিজমির অভাব।
— দীর্ঘস্থায়ী খরা ও জলবায়ু পরিবর্তন।
— অভ্যন্তরীণ যুদ্ধ ও রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা।