ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (গ) শ্বসন
মানবদেহে শক্তি উৎপাদনের প্রক্রিয়া সম্পর্কিত সাধারণ জ্ঞান পরীক্ষায় প্রায়ই আসে। শ্বসন প্রক্রিয়া কোষের অভ্যন্তরে ঘটে এবং শক্তি উৎপাদনের প্রধান মাধ্যম হিসেবে কাজ করে।
**শ্বসন সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— শ্বসন হলো এমন একটি জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে খাদ্যের গ্লুকোজ অণু ভেঙে শক্তি (ATP) উৎপন্ন হয়।
— শ্বসন দুই প্রকার: বাহ্যিক শ্বসন (ফুসফুসের মাধ্যমে অক্সিজেন গ্রহণ ও কার্বন ডাইঅক্সাইড ত্যাগ) এবং কোষীয় শ্বসন (মাইটোকন্ড্রিয়ায় ঘটে, যেখানে শক্তি উৎপন্ন হয়)।
— কোষীয় শ্বসনের তিনটি প্রধান ধাপ রয়েছে: গ্লাইকোলাইসিস, ক্রেবস চক্র এবং ইলেকট্রন ট্রান্সপোর্ট চেইন।
— গ্লুকোজ + অক্সিজেন → কার্বন ডাইঅক্সাইড + পানি + শক্তি (ATP)। এই প্রক্রিয়ায় উৎপন্ন শক্তি মানবদেহের বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ব্যবহৃত হয়।
— মানবদেহে শক্তির প্রধান উৎস হিসেবে শ্বসনের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। খাদ্য গ্রহণের মাধ্যমে গৃহীত গ্লুকোজ শ্বসন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।
**বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:**
✗ ক) পরিপাক: পরিপাক হলো খাদ্যকে ভেঙে সরল উপাদানে পরিণত করার প্রক্রিয়া, যা শক্তি উৎপাদনের সরাসরি উৎস নয়।
✗ খ) খাদ্য গ্রহণ: খাদ্য গ্রহণ শক্তির উৎস হিসেবে কাজ করে, কিন্তু শক্তি উৎপাদনের প্রধান প্রক্রিয়া নয়। খাদ্য গ্রহণের মাধ্যমে গৃহীত উপাদান শ্বসন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।
✗ ঘ) রক্ত সংবহন: রক্ত সংবহন হলো অক্সিজেন ও পুষ্টি উপাদান পরিবহনের মাধ্যম, যা শ্বসন প্রক্রিয়ার জন্য প্রয়োজনীয় উপাদান সরবরাহ করে। তবে এটি নিজে শক্তি উৎপাদনের উৎস নয়।
উৎস:
- জীববিজ্ঞান বিষয়ক পাঠ্যপুস্তক (এনসিটিবি অনুমোদিত)
- মানব শারীরবিদ্যা বিষয়ক রেফারেন্স বই (উদাহরণ: গাই ও কাথ, মানব শারীরবিদ্যা)
- বিভিন্ন সরকারি চাকরির পরীক্ষার প্রশ্নব্যাংক (BCS, Bank, Primary)