ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (গ) ৭ম-৮ম শতক
**মাৎস্যন্যায়** প্রাচীন বাংলার রাজনৈতিক ও সামাজিক অবস্থা বর্ণনা করতে ব্যবহৃত একটি ঐতিহাসিক পরিভাষা। এটি এমন এক সময়কালকে নির্দেশ করে যখন বাংলায় রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা ও দুর্বল শাসনব্যবস্থার কারণে সমাজে বিশৃঙ্খলা বিরাজ করছিল। এই সময়ে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র রাজা-জমিদাররা নিজেদের মধ্যে ক্ষমতার লড়াইয়ে লিপ্ত ছিলেন, ফলে সাধারণ মানুষের জীবন অত্যন্ত কঠিন হয়ে উঠেছিল। এই অবস্থাকে মাছেদের রাজত্বের সাথে তুলনা করা হয়েছে, যেখানে বড় মাছেরা ছোট মাছেদের খেয়ে ফেলে।
---
**মাৎস্যন্যায়** সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:
— **অর্থ ও ব্যুৎপত্তি**: সংস্কৃত শব্দ "মাৎস্যন্যায়" অর্থ "মাছেদের আইন"। প্রাচীন ভারতীয় সাহিত্যে এই শব্দটি এমন এক সামাজিক অবস্থাকে বর্ণনা করতে ব্যবহৃত হয়েছে যেখানে শক্তিশালীরা দুর্বলদের শোষণ করে।
— **বাংলায় প্রেক্ষাপট**: বাংলায় মাৎস্যন্যায়ের সময়কাল ছিল আনুমানিক **৭ম থেকে ৮ম শতক**। এই সময় বাংলায় কোনো কেন্দ্রীয় শক্তিশালী রাজবংশ ছিল না। ফলে বিভিন্ন ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র রাজা ও জমিদার নিজেদের মধ্যে ক্ষমতার লড়াইয়ে ব্যস্ত ছিলেন।
— **কারণ**: এই সময় বাংলায় গুপ্ত সাম্রাজ্যের পতনের পর কোনো শক্তিশালী রাজবংশের অভাব ছিল। ফলে স্থানীয় শাসকরা নিজেদের মধ্যে যুদ্ধে লিপ্ত হয়ে পড়েন এবং সাধারণ মানুষের জীবন অত্যন্ত দুর্বিষহ হয়ে ওঠে।
— **ফলাফল**: এই বিশৃঙ্খলা থেকে উত্তরণের জন্য পরবর্তীতে পাল রাজবংশের উত্থান ঘটে, যারা বাংলায় স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনেন।
— **ঐতিহাসিক উল্লেখ**: প্রাচীন বাংলার ইতিহাসে মাৎস্যন্যায়ের উল্লেখ পাওয়া যায় বিভিন্ন ঐতিহাসিক গ্রন্থে, যেমন **হিউয়েন সাং-এর বিবরণ** এবং **তিব্বতীয় ধর্মগ্রন্থগুলোতে**।
---
বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:
✗ (ক) ৫ম-৬ষ্ঠ শতক: এই সময়কাল গুপ্ত সাম্রাজ্যের শাসনামলের অন্তর্গত ছিল, যখন বাংলায় কেন্দ্রীয় শাসন ব্যবস্থা তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী ছিল। তাই মাৎস্যন্যায়ের বর্ণনা এ সময়ের জন্য প্রযোজ্য নয়।
✗ (খ) ৬ষ্ঠ-৭ম শতক: এই সময়কাল গুপ্ত সাম্রাজ্যের পতনের সূচনা হলেও মাৎস্যন্যায়ের পুরোপুরি বিকাশ ঘটেনি। এটি মূলত ৭ম শতকের শেষভাগ থেকে শুরু হয়েছিল।
✗ (ঘ) ৮ম-৯ম শতক: এই সময়কালে পাল রাজবংশের উত্থান ঘটে এবং বাংলায় স্থিতিশীলতা ফিরে আসে। ফলে মাৎস্যন্যায়ের অবসান ঘটে। তাই এই সময়কাল মাৎস্যন্যায়ের জন্য প্রযোজ্য নয়।
---
উৎস:
- **ড. আবদুল করিম**, *প্রাচীন বাংলার ইতিহাস* (বাংলা একাডেমি, ২০০৮)
- **ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ**, *বাংলা সাহিত্যের ইতিবৃত্ত* (আনন্দ পাবলিশার্স, ২০১৫)
- **হিউয়েন সাং-এর বিবরণ** (তাং রাজবংশের