ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (ক) গারো
<জাতিগোষ্ঠীর সামাজিক কাঠামো সম্পর্কিত প্রাসঙ্গিক ভূমিকা>
বাংলাদেশের বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মধ্যে সামাজিক ও পারিবারিক কাঠামোর ভিন্নতা লক্ষ্য করা যায়। বিশেষ করে মাতৃপ্রধান পরিবার ব্যবস্থা বাংলাদেশের কয়েকটি জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে বিদ্যমান, যেখানে পরিবারের প্রধান হন মাতা এবং উত্তরাধিকার সূত্রে সম্পত্তি মেয়েদের মধ্যেই প্রবাহিত হয়।
**গারো জাতিগোষ্ঠী সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— গারো জনগোষ্ঠী বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলসহ ভারতের মেঘালয় রাজ্যেও বসবাস করে। বাংলাদেশে তাদের প্রধান আবাসস্থল হলো ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল, সিলেট ও পার্বত্য চট্টগ্রামের কিছু এলাকা।
— গারো সমাজ **মাতৃপ্রধান পরিবার ব্যবস্থা** অনুসরণ করে। এ ব্যবস্থায় পরিবারের প্রধান হন মাতা, এবং উত্তরাধিকার সূত্রে সম্পত্তি মেয়েদের মধ্যেই প্রবাহিত হয়। পুত্ররা বিবাহের পর স্ত্রীর গৃহে বসবাস করে এবং সন্তানদের পরিচয় মাতার সূত্রে নির্ধারিত হয়।
— গারো সমাজে **নোকপান্ত** নামে পরিচিত বিবাহ ব্যবস্থা প্রচলিত, যেখানে বিবাহের পর স্বামী স্ত্রীর গৃহে বসবাস করে এবং স্ত্রীর পরিবারের সাথে যুক্ত থাকে।
— গারো সমাজে ধর্মীয় বিশ্বাসের ক্ষেত্রে খ্রিস্টান ধর্মের প্রভাব বৃদ্ধি পেলেও তাদের ঐতিহ্যবাহী ধর্ম **সাংসারেক** নামে পরিচিত, যা প্রকৃতি ও পূর্বপুরুষদের উপাসনার উপর ভিত্তি করে গঠিত।
**বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:**
✗ খ) সাওতাল: সাওতাল জনগোষ্ঠী বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলে (রাজশাহী, দিনাজপুর) বসবাস করে। তাদের সমাজ ব্যবস্থা **পিতৃপ্রধান**, যেখানে পরিবারের প্রধান হন পিতা এবং উত্তরাধিকার সূত্রে সম্পত্তি পুত্রদের মধ্যেই প্রবাহিত হয়।
✗ গ) মনিপুরি: মনিপুরি জনগোষ্ঠী বাংলাদেশের সিলেট অঞ্চলে বসবাস করে। তাদের সমাজ ব্যবস্থা মূলত **পিতৃপ্রধান**, তবে কিছু ক্ষেত্রে মাতৃপ্রধান প্রভাব লক্ষ্য করা যায়। তবে এটি গারোদের মতো সুসংগঠিত মাতৃপ্রধান ব্যবস্থা নয়।
✗ ঘ) চাকমা: চাকমা জনগোষ্ঠী পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাস করে। তাদের সমাজ ব্যবস্থা **পিতৃপ্রধান**, যেখানে পরিবারের প্রধান হন পিতা এবং উত্তরাধিকার সূত্রে সম্পত্তি পুত্রদের মধ্যেই প্রবাহিত হয়।
**উৎস:**
- বাংলাদেশ জাতিতাত্ত্বিক জাদুঘর কর্তৃক প্রকাশিত "বাংলাদেশের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী" (২০১৫)
- "Tribal Cultures in Bangladesh" – আবুল ফজল (২০১০)
- NTRCA পরীক্ষার প্রশ্নব্যাংক (২০১৮-২০২৩) – সামাজিক কাঠামো বিষয়ক অধ্যায়