ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (ক) ইরাক
<সাধারণ জ্ঞানের ভূমিকা>
বিশ্বের প্রাচীনতম সভ্যতাগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো মেসোপটেমিয়া সভ্যতা। এই অঞ্চলটি মানবসভ্যতার বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। বর্তমান বিশ্বের মানচিত্রে মেসোপটেমিয়ার অবস্থান ও দেশভিত্তিক অবস্থান সম্পর্কে জানা সরকারি চাকরির পরীক্ষায় প্রায়শই আসে।
**মেসোপটেমিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— মেসোপটেমিয়া শব্দটির অর্থ "দুই নদীর মধ্যবর্তী ভূমি"। এটি ইউফ্রেটিস ও টাইগ্রিস নদীর মধ্যবর্তী অঞ্চলকে নির্দেশ করে।
— এই অঞ্চলটি বর্তমান ইরাক, সিরিয়া, তুরস্ক ও ইরানের অংশবিশেষ নিয়ে গঠিত ছিল।
— প্রাচীনকালে মেসোপটেমিয়ায় সুমেরীয়, আক্কাদীয়, ব্যাবিলনীয় ও অ্যাসিরীয় সভ্যতার বিকাশ ঘটে।
— এখানে বিশ্বের প্রাচীনতম লিখিত আইন সংহিতা (হামুরাবির আইন) প্রণীত হয়েছিল।
— মেসোপটেমিয়ার প্রধান শহরগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো উর, উরুক, ব্যাবিলন, নিপ্পুর ও নিনেভেহ।
— খ্রিস্টপূর্ব প্রায় ৩৫০০ অব্দে এখানে প্রথম শহর ও নগরসভ্যতার বিকাশ ঘটে।
— মেসোপটেমিয়ার অধিবাসীরা কিউনিফর্ম লিপির উদ্ভাবক হিসেবে পরিচিত।
— এই অঞ্চলটি খ্রিস্টপূর্ব ৫৩৯ অব্দে পারস্য সাম্রাজ্যের অধীনে আসে।
— পরবর্তীতে ইসলামের আবির্ভাবের পর আরব মুসলমানদের অধীনে চলে যায়।
— আধুনিক যুগে ইরাক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর মেসোপটেমিয়ার অধিকাংশ অঞ্চল ইরাকের অন্তর্ভুক্ত হয়।
**বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:**
✗ খ) ইরান: মেসোপটেমিয়ার পূর্ব অংশে ইরানের কিছু অঞ্চল ছিল, তবে অধিকাংশ অঞ্চল ইরাকের অন্তর্ভুক্ত। ইরানকে মেসোপটেমিয়ার প্রধান অংশ হিসেবে বিবেচনা করা যায় না।
✗ গ) তুরস্ক: মেসোপটেমিয়ার উত্তর-পশ্চিম অংশে তুরস্কের কিছু অঞ্চল ছিল, কিন্তু এটি মেসোপটেমিয়ার প্রধান অংশ নয়।
✗ ঘ) সিরিয়া: মেসোপটেমিয়ার পশ্চিম অংশে সিরিয়ার কিছু অঞ্চল ছিল, তবে অধিকাংশ অঞ্চল ইরাকের অন্তর্ভুক্ত।
**উৎস:**
— "A History of the Ancient Near East" – Amélie Kuhrt
— "Mesopotamia: The Invention of the City" – Gwendolyn Leick
— বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (BPSC) প্রণীত সাধারণ জ্ঞান বিষয়ক প্রশ্নব্যাংক