ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (খ) ২০১৫ সাল
**মিলেনিয়াম ডেভেলপমেন্ট গোল সম্পর্কিত ভূমিকা:**
জাতিসংঘ কর্তৃক নির্ধারিত মিলেনিয়াম ডেভেলপমেন্ট গোল (MDGs) ছিল বিশ্বব্যাপী দারিদ্র্য বিমোচন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, লিঙ্গ সমতা এবং পরিবেশগত স্থায়িত্বসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণের একটি যুগান্তকারী উদ্যোগ। এই লক্ষ্যগুলো অর্জনের সময়সীমা ছিল ২০১৫ সাল পর্যন্ত।
**মিলেনিয়াম ডেভেলপমেন্ট গোল সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য:**
— মিলেনিয়াম ডেভেলপমেন্ট গোল (MDGs) ঘোষণা করা হয় ২০০০ সালে জাতিসংঘের মিলেনিয়াম শীর্ষ সম্মেলনে। বিশ্বের প্রায় সকল রাষ্ট্রই এই লক্ষ্যগুলো গ্রহণ করে।
— MDGs ছিল মোট ৮টি লক্ষ্যমাত্রা, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
১) চরম দারিদ্র্য ও ক্ষুধা নির্মূল
২) সর্বজনীন প্রাথমিক শিক্ষা অর্জন
৩) লিঙ্গ সমতা ও নারীর ক্ষমতায়ন
৪) শিশুমৃত্যু হার হ্রাস
৫) মাতৃস্বাস্থ্যের উন্নতি
৬) এইচআইভি/এইডস, ম্যালেরিয়া ও অন্যান্য রোগ প্রতিরোধ
৭) পরিবেশগত স্থায়িত্ব নিশ্চিতকরণ
৮) উন্নয়নের জন্য বৈশ্বিক অংশীদারিত্ব গড়ে তোলা
— এই লক্ষ্যগুলো অর্জনের সময়সীমা ছিল ২০১৫ সাল পর্যন্ত। এরপর জাতিসংঘ নতুন লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে **টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (SDGs)** প্রণয়ন করে, যার সময়সীমা ২০৩০ সাল পর্যন্ত।
— জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্রগুলো MDGs-এর অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করে এবং প্রতি বছর প্রতিবেদন প্রকাশ করে। অনেক ক্ষেত্রেই উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সাধিত হলেও কিছু লক্ষ্যমাত্রা পুরোপুরি অর্জিত হয়নি।
**বিভ্রান্তিকর বিকল্প বিশ্লেষণ:**
✗ ক) ২০১০ সাল: মিলেনিয়াম ডেভেলপমেন্ট গোলের সময়সীমা ছিল ২০১৫ সাল পর্যন্ত, ২০১০ সাল নয়। ২০১০ সাল ছিল মধ্যবর্তী সময়, যেখানে অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়েছিল।
✗ গ) ২০২০ সাল: ২০২০ সাল ছিল টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (SDGs)-এর মধ্যবর্তী সময়। MDGs-এর সময়সীমা ছিল ২০১৫ সাল পর্যন্ত।
✗ ঘ) ২০২৫ সাল: ২০২৫ সাল ছিল না কোনো লক্ষ্যমাত্রার সময়সীমা। এটি ছিল পরবর্তী দশকের জন্য বিবেচিত সময়।
**উৎস:**
— জাতিসংঘের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট: [https://www.un.org/millenniumgoals/](https://www.un.org/millenniumgoals/)
— মিলেনিয়াম ডেভেলপমেন্ট গোলস রিপোর্ট ২০১৫, জাতিসংঘ
— বাংলাদেশ সরকারের পরিকল্পনা কমিশনের বিভিন্ন প্রতিবেদন